বাসস
  ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:৩৪

গত সপ্তাহে আড়াই বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত সামরিক অগ্রগতি অর্জন ইউক্রেনের

ঢাকা, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অফ ওয়ার (আইএসডব্লিউ) থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এএফপির বিশ্লেষণ অনুসারে জানা গেছে রাশিয়ার বাহিনীর জন্য স্টারলিংক বন্ধ থাকায় এই সুযোগ নিয়ে ইউক্রেন গত সপ্তাহের বুধবার থেকে রোববারের মধ্যে রাশিয়া থেকে ২০১ বর্গকিলোমিটার (৭৮ বর্গমাইল) পুনরুদ্ধার করেছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার দখলে থাকা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে, যা ২০২৩ সালের জুনের পর কিয়েভের জন্য দ্রুততম ভূখন্ড পুনরুদ্ধারের ঘটনা। এই সাফল্য রাশিয়ার ডিসেম্বর মাসের অর্জনের সাথে তুলনীয়, যা যুদ্ধের মোড় ঘোরানোর ইঙ্গিত দেয়।

ইন্সটিটিউট ফর দ্য স্টাডি অফ ওয়ার (আইএসডব্লিউ) এবং ক্রিটিক্যাল থ্রেটস প্রজেক্টের আরেকটি মার্কিন থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক জানায়, ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার স্টারলিংক ব্যবহারের ওপর সাম্প্রতিক বিধিনিষেধজনিত যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতাকে কাজে লাগিয়ে পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে।  

রুশ মিলিটারি ব্লগাররা নিশ্চিত করেছেন যে, এই প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে ফ্রন্টলাইনে রুশ কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে, যা ইউক্রেনীয়দের কৌশলগত সুবিধা দিচ্ছে।

ফেব্রুয়ারি ৫ তারিখে সামরিক পর্যবেক্ষকরা লক্ষ্য করেছেন যে ফ্রন্ট লাইনে মস্কো কর্তৃক ব্যবহৃত স্টারলিঙ্ক অ্যান্টেনাগুলোতে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে, এর আগে ইলন মাস্ক ক্রেমলিনের এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সমাপ্তির জন্য ‘পদক্ষেপ ঘোষণা করেন।

কিয়েভ দাবি করেছে যে, রাশিয়ান ড্রোনগুলো বিশেষ করে, ইলেকট্রনিক জ্যামিং সিস্টেমকে ফাঁকি দিতে এবং তাদের লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত করার জন্য ব্যবহার করছে।

স্টারলিংক ব্যবহার না করে, রাশিয়ান বাহিনী কেবল ৯ ফেব্রুয়ারি অগ্রসর হয়েছে, অন্যান্য দিনগুলোতে কিয়েভ স্থল ভাগ অর্জন করেছে।

পুনরুদ্ধারকৃত এই এলাকাটি জাপোরিঝিয়া শহর থেকে প্রায় ৮০ কি পূর্বে অবস্থিত এবং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০২৫ সালের গ্রীষ্মকাল থেকে রুশ বাহিনীর অগ্রগতির পরিপ্রেক্ষিতে এই পুনরুদ্ধার ইউক্রেনীয় বাহিনীর জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।

ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে মস্কো সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডের ১৯.৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ রেখেছে, যা এক বছর আগে ১৮.৬ শতাংশ ছিল।