বাসস
  ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:৫০

মেক্সিকোতে বিশাল কানাডীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সফর

ঢাকা, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : সাম্প্রতিক অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাজনিত উদ্বেগ ছাপিয়ে মেক্সিকোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্য নিয়ে সোমবার দেশটিতে পৌঁছান শত শত কানাডীয় ব্যবসায়ী নেতা।

মেক্সিকো সিটি থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, প্রায় ৪০০ কানাডীয় শিল্প-প্রতিনিধি এই সফরে অংশ নেন। আয়োজকদের মতে, এটি এ পর্যন্ত মেক্সিকো সফরকারী কানাডার অন্যতম বৃহৎ ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল। সফরে তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন কানাডার জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী ডোমিনিক এ. লেব্লাঁ।

মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ওপর একমুখী নির্ভরতা কমাতে সমকক্ষ অন্যান্য অর্থনীতির সাথে বাণিজ্য জোরদারে গুরুত্ব দিচ্ছে অটোয়া। 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দফায় দফায় কানাডীয় পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। এছাড়া কয়েক দশক ধরে কার্যকর থাকা ‘যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকো’ ত্রিদেশীয় বাণিজ্য চুক্তিটি বাতিলের বিষয়টিও তিনি বিবেচনা করছেন বলে জানা গেছে। 

এমন পরিস্থিতিতে কানাডার বাণিজ্য ও আন্তঃসরকার বিষয়ক মন্ত্রী ডোমিনিক লেব্লাঁ বলেন, ‘নতুন অংশীদারত্ব গড়ার জন্য এখনই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।’

ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের আনন্দ কিছুটা ম্লান করে দিয়েছে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা ঝুঁকি। কয়েক সপ্তাহ আগে মেক্সিকোতে একটি কানাডীয় খনি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১০ শ্রমিককে অপহরণ করা হয়। তাদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে, বাকিরা এখনো নিখোঁজ।

এই প্রেক্ষাপটে লেব্লাঁ জানান, নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। 

তিনি আরও বলেন, চলতি বছর মেক্সিকোর কানাডীয় দূতাবাসে ‘রয়্যাল কানাডিয়ান মন্টেড পুলিশ’-এর সদস্য সংখ্যা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সহিংসতা-কবলিত সিনালোয়া অঙ্গরাজ্যের একটি রূপার খনি থেকে গত ২৩ জানুয়ারি ওই শ্রমিকদের অপহরণ করা হয়।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, অপহৃতরা সবাই মেক্সিকোর নাগরিক হলেও তারা ভ্যাঙ্কুভারভিত্তিক কোম্পানি ‘ভিজস্লা সিলভার’-এ কর্মরত ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো সংঘবদ্ধ মাদক কার্টেল বা অপরাধচক্র এই ঘটনার পেছনে দায়ী।

উল্লেখ্য, মেক্সিকোতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে অপহরণের ঘটনা দীর্ঘদিনের সমস্যা। ১৯৫০-এর দশক থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে ১ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন।

মেক্সিকোর অর্থমন্ত্রী মার্সেলো এব্রার্দ মন্তব্য করেন, বর্তমান বাণিজ্যিক আলোচনায় নিরাপত্তা ইস্যুটি অন্তর্ভুক্ত করা একটি ‘বুদ্ধিমানের কাজ’ হবে।