বাসস
  ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:৪৭

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে হামলায় নিহত ১৪

ঢাকা, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সোমবার দুইটি বোমা হামলা এবং পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে গোলাগুলিতে অন্তত ১১ জন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও এক শিশুসহ তিন জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। 

একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছে।

খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের পৃথক এই সব ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। 

এই অঞ্চলে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী আফগান সীমান্তসংলগ্ন দক্ষিণ ও উত্তরের প্রদেশে বাড়তে থাকা সশস্ত্র বিদ্রোহের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

পেশাওয়ার থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

এই মাসে ইসলামিক স্টেট গ্রুপ (আইএস) রাজধানী ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে এক বিশাল আত্মঘাতী বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেছে। 

ওই হামলায় কমপক্ষে ৩১ জন নিহত ও ১৬৯ জন আহত হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় খাইবার পাখতুনখোয়ার উপজাতীয় জেলা বাজাউরে এক আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী বিস্ফোরক ভর্তি গাড়ি নিয়ে একটি ধর্মীয় কলেজে ঢুকে পড়লে গাড়িটি কলেজের দেয়ালে ধাক্কা দেয়।

তিনি আরও বলেন, ‘এই হামলায় সেমিনারির ভিতরে থাকা আট পুলিশ ও ফ্রন্টিয়ার কোরের সদস্য শহীদ হয়েছেন। এছাড়াও এতে আরও ১০ জন আহত হয়েছেন।’ 

ওই বোমা বিস্ফোরণে আশপাশের কয়েকটি বাড়ির ছাদ ধসে পড়লে, এতে এক শিশু নিহত হয়। 

নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে।
অপর এক হামলায় বান্নু শহরে একটি রিকশায় রাখা বোমা মিরিয়ান থানার কাছে বিস্ফোরিত হয়। 

এতে দুই নাগরিক নিহত ও ১৭ জন আহত হন।

-চীনারা লক্ষ্যবস্তু-

শাংলা জেলায় তল্লাশী অভিযানের সময় তিন পুলিশ সদস্য ও তিন সন্ত্রাসীও নিহত হন।
খাইবার পাখতুনখোয়ার পুলিশ সোমবার রাতে এক বিবৃতিতে জানায়, গোলাগুলিতে নিহত তিন সন্ত্রাসী চীনা নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চানিয়েছে।

বিগত কয়েক বছরে চীন পাকিস্তানে কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। তবে চীনা অর্থায়নের প্রকল্পগুলো স্থানীয়দের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এছাড়া চীনা নাগরিকরা প্রায়ই হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে আসছেন।
গত বছরের মার্চে করাকোরাম হাইওয়েতে একটি বড় বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে কাজ করা পাঁচ চীনা নাগরিক ও তাদের চালক নিহত হন। 

এক আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে, হামলা চালালে চালক পাহাড়ি হাইওয়ের একটি গভীর খাদে পড়ে যায়।

চীন ইসলামাবাদের ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক মিত্র। পাকিস্তানের বিভিন্ন সময়ের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় তারা আর্থিক সহায়তা প্রদান করে।

চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিইসি) প্রকল্পে বিশাল পরিবহন, শক্তি ও অবকাঠামোগত উদ্যোগে চীন প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করেছে। যেটি বেইজিংয়ের আন্তঃদেশীয় ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ কর্মসূচির অংশ।

পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই এলাকা সিল্ক রোড রুটের কাছে অবস্থিত হওয়ায়, সন্ত্রাসীরা কৌশলগত সড়ক করিডর ও চীনা উন্নয়ন প্রকল্পের ওপর ধারাবাহিক হুমকি সৃষ্টি করছে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এর প্রেক্ষিতে কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্ট (সিটিডি) ও জেলা পুলিশ সমন্বিত কৌশলের অধীনে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে।’