শিরোনাম

ঢাকা, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ২০২৫ সালে প্রবল যুব আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ হারানো নেপালের প্রবীণ কমিউনিস্ট নেতা কে পি শর্মা ওলি আবারও রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করছেন।
৭৩ বছর বয়সী ওলি গত প্রায় ছয় দশক ধরে কমিউনিস্ট রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং চারবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেপ্টেম্বরের দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভে অন্তত ৭৭ জন নিহত হওয়ার পর তিনি পদত্যাগে বাধ্য হন।
কাঠমান্ডু থেকে এএফপি জানায়, আসন্ন ৫ মার্চের নির্বাচনে সংসদে পুনরায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের আশায় মাঠে নেমেছেন তিনি। ওলি নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল-ইউনিফায়েড মার্কসিস্ট লেনিনিস্ট (সিপিএন-ইউএমএল) (সিপিএন-ইউএমএল) নির্বাচনে জয় পেতে জোর প্রচারণা চালাচ্ছে।
তবে নিজ নির্বাচনী এলাকায় ৩৫ বছর বয়সী র্যাপার থেকে মেয়র হওয়া বালেন্দ্র শাহ-এর সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন ওলি। তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে নিজেকে তুলে ধরছেন শাহ।
সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হচ্ছে। গত সপ্তাহে ওলি বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ভোটারদের কাছে আবেদন জানিয়ে নির্বাচনকে আখ্যা দিয়েছেন ‘দেশ জ্বালিয়ে দেওয়া আর দেশ গড়ার শক্তির মধ্যে প্রতিযোগিতা’ হিসেবে।
ওলি সরকারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের পর বিক্ষোভ শুরু হলেও অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতিই আন্দোলনের মূল প্রেক্ষাপট ছিল।
২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সহিংসতার মধ্যে বিক্ষোভকারীরা তার বাসভবন, সংসদ ভবন ও সরকারি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করলে তিনি পদত্যাগ করেন। পদত্যাগপত্রে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এতে ‘রাজনৈতিক সমাধান ও সংকট নিরসনের পথ প্রশস্ত হবে’।
জানুয়ারিতে অন্তর্র্বতী সরকারের গঠিত তদন্ত কমিশনের সামনে তিনি বক্তব্য দেন এবং পুলিশকে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক অডিও বার্তায় ওলি বলেন, ‘আমি গুলি চালানোর কোনো নির্দেশ দিইনি।’ তিনি সহিংসতার জন্য ‘অনুপ্রবেশকারী’ ও ‘নৈরাজ্যবাদী শক্তি’কে দায়ী করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, ওলির নেতৃত্বে কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা রয়েছে এবং তিনি নিজের সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত মনে করতেন। সমর্থকদের কাছে ‘কেপি বা’ (বাবা) নামে পরিচিত ওলি দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কর্মীদের মাঝে ব্যক্তিপূজার মতো জনপ্রিয়তা গড়ে তুলেছেন।
কৈশোরে ভূগর্ভস্থ কমিউনিস্ট রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন ওলি। ১৯৭৩ সালে রাজতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য গ্রেপ্তার হয়ে ১৪ বছর কারাদণ্ড ভোগ করেন, যার চার বছর ছিল একাকী কারাবাস। ২০০৮ সালে নেপালে রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হওয়ার আগে দেশটি এক দশকব্যাপী গৃহযুদ্ধও দেখেছে।
১৯৮৭ সালে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি সিপিএন-ইউএমএলে যোগ দেন এবং ধাপে ধাপে শীর্ষ নেতৃত্বে ওঠেন। ২০১৫ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হন; পরে ২০১৮ সালে পুনর্নির্বাচিত হন এবং ২০২১ সালে অল্প সময়ের জন্য আবার দায়িত্ব নেন।
সর্বশেষ ২০২৪ সালে ক্ষমতায় ফেরেন তিনি, জোট গঠন করে কেন্দ্র-বামপন্থী নেপালি কংগ্রেস-এর সঙ্গে। তবে দলটি সম্প্রতি পাঁচবারের প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা-এর স্থলে ৪৯ বছর বয়সী গগন থাপা-কে নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছে।
৩০ মিলিয়ন জনসংখ্যার হিমালয়ঘেরা এই দেশটি ভারত ও চীনের মাঝখানে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে ওলি দুই প্রতিবেশী শক্তির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করেছেন, যদিও মাঝে মাঝে ভারতের বিরুদ্ধে জনতুষ্টিমূলক বক্তব্যও দিয়েছেন।
এবারের নির্বাচনে ওলির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎই নির্ধারিত হবে—তিনি কি আবারও ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন, নাকি তরুণ প্রজন্মের উত্থানে নতুন অধ্যায় শুরু হবে—সেই প্রশ্ন এখন নেপালের রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে।