শিরোনাম

ঢাকা, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : মিয়ানমারে মাসব্যাপী চলা সাধারণ নির্বাচনের শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ রোববার। জান্তা সরকারের অধীনে আয়োজিত এ নির্বাচনে সামরিক বাহিনীর সমর্থনপুষ্ট দলটির বিশাল জয় প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সমালোচকদের মতে, এই ভোট মূলত সেনাশাসনের মেয়াদ দীর্ঘায়িত করার একটি কৌশল মাত্র।
দীর্ঘ সামরিক শাসনের ইতিহাস রয়েছে মিয়ানমারে। মাঝে ১০ বছর বেসামরিক সংস্কারের পথে থাকলেও ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে সেই অগ্রযাত্রা থেমে যায়। সে সময় গণতন্ত্রকামী নেত্রী অং সান সু চিকে বন্দি করার পর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে এবং ভয়াবহ মানবিক সংকট দেখা দেয়।
ইয়াঙ্গুন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, সামরিক অভ্যুত্থানের পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহ আগে রোববার স্থানীয় সময় ভোর ৬টায় দেশজুড়ে কয়েক ডজন আসনে তৃতীয় ও শেষ দফার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও দেশের বিশাল একটি অংশ বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকায় সেখানে ভোট হচ্ছে না।
অং সান সু চিকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা এবং তার জনপ্রিয় দল এনএলডি’কে বিলুপ্ত ঘোষণা করায় গণতন্ত্রপন্থীরা বলছেন, এ নির্বাচন পুরোপুরি সামরিক বাহিনীর মিত্রদের অনুকূলে সাজানো হয়েছে।
নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইয়াঙ্গুনের এক বাসিন্দা এএফপিকে বলেন, ‘এ নির্বাচন থেকে আমার কোনো চাওয়া নেই। আমার মনে হয় পরিস্থিতি আগের মতোই স্থবির থাকবে।’
এদিকে বিশ্লেষকদের মতে, ‘ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’ (ইউএসডিপি) মূলত সামরিক বাহিনীর হাতের পুতুল। এই দলটিতে সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের আধিপত্য রয়েছে। নির্বাচনের প্রথম দুই ধাপে দলটি নিম্নকক্ষের ৮৫ শতাংশ এবং উচ্চকক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করেছে।
এছাড়া, সামরিক বাহিনীর তৈরি করা সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের উভয় কক্ষের ২৫ শতাংশ আসন সরাসরি সশস্ত্র বাহিনীর জন্য সংরক্ষিত থাকে। নবনির্বাচিত পার্লামেন্ট পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে এবং জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং নিজেও এই পদের দাবিদার হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জান্তা সরকার তাদের শাসনকে বেসামরিক বৈধতা দেওয়ার জন্যই এই নির্বাচনের নাটক সাজিয়েছে। তবে সাধারণ ভোটারদের কেউ কেউ ভিন্নভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
ইয়াঙ্গুনের ওই নারী ভোটার জানান, তিনি ইউএসডিপি বাদে অন্য যেকোনো দলকে ভোট দেবেন।
তিনি বলেন, ‘আমি জানি শেষ পর্যন্ত ফলাফল কী হবে, তবু আমার ভোটের মাধ্যমে তাদের ছক কিছুটা হলেও নষ্ট করতে চাই।’
নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে প্রকাশ করার কথা থাকলেও আগামীকাল সোমবারই ইউএসডিপি নিজেদের জয় ঘোষণা করতে পারে।
২০২০ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে সু চি’র দল এনএলডি বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছিল। কিন্তু ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি কারচুপির অভিযোগ তুলে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী।
জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং গত মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলেছেন, ‘নির্বাচনী জালিয়াতি গণতন্ত্রের জন্য একটি অত্যন্ত জঘন্য বিষয়।’
৮০ বছর বয়সী নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চি বর্তমানে অজ্ঞাত স্থানে বন্দি রয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, তাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা মামলায় আটকে রাখা হয়েছে।