শিরোনাম

ঢাকা, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ (বাসস) : বন্দি মুক্তির ধীরগতিতে যখন স্বজনদের উৎকণ্ঠা বাড়ছে, তখন অর্থনীতি চাঙা করতে নতুন পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে ভেনেজুয়েলা।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তেল বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ ব্যবহার করে দেশের নড়বড়ে মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
কারাকাস থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
মঙ্গলবার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানান, ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল বিক্রি করে ওয়াশিংটনের মাধ্যমে ৩০ কোটি ডলার পেয়েছে তার দেশ। এই অর্থের বিপরীতে বলিভারকে শক্তিশালী করতে ব্যবহার করা হবে।
ভেনেজুয়েলায় কার্যত ডলারই প্রচলিত মুদ্রা। ২০১৯ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো লাগামছাড়া মূল্যস্ফীতি ঠেকাতে ডলার ব্যবহারের বৈধতা দেন।
তবে ছয় বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত তেল নিষেধাজ্ঞায় দেশে ডলারের সংকট তৈরি হয়। এতে ডলারের দাম হু হু করে বাড়তে থাকে। কালোবাজারে সম্প্রতি সরকারি দরের চেয়ে প্রায় ১০০ শতাংশ বেশি দামে ডলার লেনদেন হয়েছে।
রদ্রিগেজ বলেন, তেল থেকে নতুন আয়ের অর্থ বৈদেশিক মুদ্রাবাজার ‘স্থিতিশীল’ করতে কাজে লাগানো হবে। এতে শ্রমজীবী মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষিত থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
৩ জানুয়ারি কারাকাসে বোমা হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর হাতে মাদুরো গ্রেফতার হওয়ার পর ডেলসি রদ্রিগেজ তার স্থলাভিষিক্ত হন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার সমৃদ্ধ তেলক্ষেত্রে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোকে প্রবেশাধিকার দেওয়ার শর্তে রদ্রিগেজকে দেশটির নেতৃত্বে সমর্থন দেন।
একদিকে ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করা, অন্যদিকে প্রশাসনের মাদুরোপন্থী কঠোরপন্থীদের বিরূপ না করা—এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করতে চেষ্টা চালাচ্ছেন রদ্রিগেজ।
সোমবার তার ভাই হোর্হে রদ্রিগেজের নিয়ন্ত্রণাধীন সংসদ তেল খাতে বিদেশি বিনিয়োগসহ ২৯টি আইন সংস্কারের পরিকল্পনার কথা জানায়।
বর্তমানে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ’র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজ করতে হয়, যেখানে পিডিভিএসএ’র সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা বাধ্যতামূলক।
হোর্হে রদ্রিগেজ বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগকে সুরক্ষিত ও লাভজনক হতে হবে।’
মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কাজ করার আগ্রহের ইঙ্গিত হিসেবে সোমবার ডেলসি রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষিত এক ব্যাংকারকে দেশের শীর্ষ বিনিয়োগ সংস্থার প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন।
সাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রধান ক্যালিক্সটো ওর্তেগা এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের তেল পরিশোধন শিল্পের কেন্দ্র হিউস্টনে কূটনৈতিক দায়িত্বে ছিলেন।
তিনি আলেক্স সাআবের স্থলাভিষিক্ত হন। কলম্বিয়া-জন্ম নেওয়া ভেনেজুয়েলান সাআবকে মাদুরোর ঘনিষ্ঠ হিসেবে দেখা হতো। গত সপ্তাহে তাকে শিল্পমন্ত্রীর পদ থেকে সরানো হয়।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, কারাকাসের একটি সামরিক ঘাঁটির গোপন আশ্রয় থেকে মাদুরোকে ধরে নিউইয়র্কের কারাগারে পাঠানোর পর কার্যত ওয়াশিংটনই ভেনেজুয়েলা চালাচ্ছে।
জনপ্রিয় বিরোধী নেতা ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর পরিবর্তে রদ্রিগেজকে দেশটির রূপান্তরকালীন নেতৃত্বের জন্য বেছে নেন তিনি।
মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, মাচাদোর সঙ্গে তার আলোচনা এখনও চলছে। গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে সাক্ষাতে মাচাদো তাকে তার নোবেল পদক উপহার দেন।
ট্রাম্প ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের বলেন, কোনোভাবে তাকে যুক্ত করা যেতে পারে। আমি সেটা করতে পারলে খুসী হব ।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকা মাচাদো মঙ্গলবার জোর দিয়ে বলেন, সব রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত ভেনেজুয়েলায় প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব নয়।
রদ্রিগেজ সরকার ধীরে ধীরে প্রায় ৮০০ রাজনৈতিক বন্দির মধ্যে কিছু বন্দিকে মুক্তি দিতে শুরু করেছে। তবে মাদুরোবিরোধী বহু গুরুত্বপূর্ণ নেতা এখনও কারাগারে রয়েছেন।
মঙ্গলবার ২০০ বন্দির পরিবার কারাকাসে প্রসিকিউটরের দফতরের সামনে বিক্ষোভ করেন। তারা স্বজনদের জীবিত থাকার প্রমাণ দাবি করেন।
ন্যান্সি কিনোনেস এএফপিকে বলেন, অভ্যুত্থানচেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচ মাস ১৮ দিন ধরে ২৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত তার ছেলের তিনি কোনো খবর পাচ্ছেন না ।
বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা এক প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল—‘ওরা কোথায়?’