বাসস
  ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:১৬

মিনেসোটায় মোতায়েনের জন্য ১,৫০০ সেনাকে প্রস্তুতির নির্দেশ 

ঢাকা, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : অভিবাসনবিরোধী অভিযানের জেরে সৃষ্ট অস্থিরতার মুখে পড়া মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে মোতায়েনের জন্য ১ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনাকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে পেন্টাগন। 

রোববার যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

কয়েক দিন আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ইনসারেকশন অ্যাক্ট’ প্রয়োগের হুমকি দেওয়ার পর এই প্রস্তুতির খবর আসে।

এই আইন ‘সশস্ত্র বিদ্রোহ’ বা ‘ঘরোয়া সহিংসতা’ দমনে সামরিক বাহিনীকে ব্যবহারের সুযোগ দেয়। 

তবে এক দিন পর তিনি বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে এই আইন প্রয়োগের প্রয়োজন নেই।

এবিসি নিউজ প্রথম সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতির খবর প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়, আলাস্কায় অবস্থানরত সক্রিয় দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর ১ হাজার ৫০০ প্যারাট্রুপারকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। তবে মোতায়েনের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি প্রেসিডেন্ট।

রোববার এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে এএফপি’র অনুরোধে পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রে ‘ইনসারেকশন অ্যাক্ট’ সর্বশেষ প্রয়োগ করা হয়েছিল ৩০ বছরেরও বেশি আগে। 

ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে সেনা মোতায়েনের যে কোনও সিদ্ধান্ত মিনেসোটায় হোয়াইট হাউস ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে।

মিডওয়েস্টের এই অঙ্গরাজ্যের প্রধান শহর মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে ৭ জানুয়ারি এক ফেডারেল এজেন্টের গুলিতে এক মার্কিন নারী নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

শনিবার মিনেসোটা ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটি জানায়, গভর্নর টিম ওয়ালজের নির্দেশে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থাকে সহায়তা দিতে রাজ্যের ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। গভর্নর হিসেবে জরুরি পরিস্থিতিতে অঙ্গরাজ্যের সামরিক রিজার্ভ বাহিনী ব্যবহারের ক্ষমতা ওয়ালজের রয়েছে।

রোববার মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে বলেন, অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের অভিযানে অংশ নেওয়া ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রায় ৩ হাজার ফেডারেল এজেন্ট নগরীতে ঢুকে পড়েছে। তারা কার্যত একটি ‘দখলদার বাহিনী।’

সিবিএস-এর ‘ফেস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এই ফেডারেল এজেন্টরা সংখ্যায় নগরীর ৬০০ সদস্যের পুলিশ বাহিনীর তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি। একই সঙ্গে তিনি ১ হাজার ৫০০ ফেডারেল সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতির খবর নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

জ্যাকব ফ্রে বলেন, ‘এটি নিরাপত্তার বিষয় নয়। কয়েক হাজার মানুষ নিয়ে শহরে ঢুকে কেবল ল্যাতিনো বা সোমালি হওয়ার কারণে লোকজনকে আতঙ্কিত করা হচ্ছে, আর তাই মিনিয়াপোলিসের মানুষ মুখ খুলছে।’

অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েম বলেন, ‘সব বিপজ্জনক ব্যক্তিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে নিজ নিজ দেশে ফেরত না পাঠানো পর্যন্ত অভিযান চলবে।’

এর আগে জুন ও জুলাই মাসে লস অ্যাঞ্জেলেসে কড়া অভিবাসন অভিযান ঘিরে তীব্র বিক্ষোভের পর প্রায় ৭০০ মার্কিন মেরিন মোতায়েন করেছিল পেন্টাগন।

সে সময়ও  ট্রাম্প ‘ইনসারেকশন অ্যাক্ট’ প্রয়োগের হুমকি দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি আইনটি প্রয়োগ করেননি। 

ওই সেনাদের দায়িত্ব তখন বৃহত্তর লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকার দুটি ফেডারেল স্থাপনাকে পাহারা দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।