বাসস
  ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১৫

হোয়াইট হাউসে বৈঠকের পর উৎকণ্ঠা ও স্বস্তির দোলাচলে গ্রিনল্যান্ডবাসী

ঢাকা, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিদের বৈঠকের পর গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দাদের মধ্যে একসঙ্গে উদ্বেগ ও স্বস্তির অনুভূতি দেখা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রে থাকা দ্বীপটি নিয়ে বুধবার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নুউক থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

কোপেনহেগেনের সার্বভৌমত্বাধীন স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেন। ট্রাম্প দ্বীপটি দখলের সম্ভাবনার কথা বারবার বলার পর তৈরি হওয়া ‘ভুল বোঝাবুঝি’ দূর করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।

গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী ন্্্উুকের ৫১ বছর বয়সী শিক্ষক ভেরা স্টিডসেন বলেন, এটা খুবই ভয়ের বিষয়, কারণ বিষয়টি অনেক বড়।

তিনি এএফপিকে বলেন, ‘আমি আশা করি ভবিষ্যতেও আমরা যেমন আছি, কোনো বিঘ্ন ছাড়া তেমনই থাকতে শান্তিতে পারব।’

বৈঠকের পর ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন আর্কটিক এই ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ‘মৌলিক মতপার্থক্যের’ কথা জানান। অন্যদিকে ট্রাম্প বলেন, তিনি মনে করেন ‘ শেষ পর্যন্ত কিছু একটা সমাধান আসবে।’

বৈঠক চলাকালে জাতীয় ঐক্যের প্রকাশ হিসেবে দোকানের জানালা, অ্যাপার্টমেন্টের বারান্দা, গাড়ি ও বাসে গ্রিনল্যান্ডের লালসাদা পতাকা উড়তে দেখা যায়।

নুউকের একটি দোকানে ‘গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়’ লেখা স্লোগানসংবলিত টি-শার্ট প্রায় শেষ হয়ে গেছে বলে জানান এএফপির এক প্রতিবেদক।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘একভাবে বা অন্যভাবে’ যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড পাবে—এমন মন্তব্যের মুখে দ্বীপটির ৫৭ হাজার বাসিন্দার মধ্যে শান্ত ভাব বজায় রাখতে কাজ করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

বুধবার একটি ক্যাফেতে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লোক্কে ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রবিষয়ক মন্ত্রী ভিভিয়ান মোৎজফেল্টের সংবাদ সম্মেলনের সম্প্রচার দেখেন ৪৩ বছর বয়সী ইভানা এগেদে লারসেন। বৈঠকটি সৌহার্দ্যপূর্ণ হয়েছে মনে করে তাঁর চোখে স্বস্তির অশ্রু চলে আসে।

তিনি বলেন, ‘এখন আমি অনেক বেশি শান্ত বোধ করছি, নিজেকে আরও নিরাপদ মনে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের খুব সরাসরি, খুব আক্রমণাত্মক বক্তব্যের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের মন ভীষণ অস্থির ছিল।’

৬৪ বছর বয়সী দারোয়ান ফ্রেডেরিক হেনিংসেনও কিছুটা আশাবাদী।

তিনি বলেন, ‘তারা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি, কিন্তু আমার আশা আছে। আমি শান্তিতে থাকতে চাই।’