বাসস
  ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:২০

অস্ত্র আইন পাসের আগেই সংসদ অধিবেশন ডাকছে অস্ট্রেলিয়া

ঢাকা, ১২ জানুয়ারি ২০২৬ (বাসস) : বন্ডাই বিচে সংঘটিত গণগুলিবর্ষণের পর বিদ্বেষমূলক অপরাধ ও অস্ত্রের মালিকানার আইন কঠোর করতে দুই সপ্তাহ আগেই সংসদ অধিবেশন ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। সোমবার এ তথ্য জানানো হয়। 

গত ১৪ ডিসেম্বর ইহুদি সম্প্রদায়ের একটি উৎসবে হামলায় ১৫ জন নিহত হন। প্রায় তিন দশকের মধ্যে এটি ছিল দেশটির সবচেয়ে প্রাণঘাতী গণগুলিবর্ষণ। ওই ঘটনার পর থেকেই বিদ্বেষমূলক অপরাধ ও অস্ত্র আইনে একগুচ্ছ সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

সিডনি থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জানান, নতুন আইন পাস ও নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আগামী ১৯ ও ২০ জানুয়ারি সংসদের উভয় কক্ষের অধিবেশন ডাকা হবে।

গ্রীষ্মকালীন বিরতি শেষে সংসদ সদস্যদের ৩ ফেব্রুয়ারি ফেরার কথা ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে আলবানিজ বলেন, ‘বন্ডাই বিচের সন্ত্রাসীদের মনে ছিল ঘৃণা, হাতে ছিল অস্ত্র। এই আইন দুটো বিষয়ই মোকাবিলা করবে।’

প্রস্তাবিত আইনে ‘বিদ্বেষ উসকানিদাতা’দের জন্য নতুন সাজা যুক্ত করা হবে। বিদ্বেষমূলক অপরাধে শাস্তি আরও কঠোর করা হবে। নিষিদ্ধ প্রতীকের তালিকা সম্প্রসারণ করা হবে। নতুন আইনে বিদ্বেষী গোষ্ঠীর তালিকা তৈরির কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, যারা ঘৃণা ছড়ানোর উদ্দেশ্যে দেশে আসতে চান, তাদের ভিসা বাতিল বা প্রত্যাখ্যানের ক্ষমতা স্বরাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রীর হাতে থাকবে।

নতুন আইন অনুযায়ী জাতীয় পর্যায়ে অস্ত্র কিনে ফেরত কর্মসূচি চালু করা হবে। এটি হবে ১৯৯৬ সালে তাসমানিয়ার পোর্ট আর্থারে ৩৫ জন নিহত হওয়ার পর চালু হওয়া কর্মসূচির পর সবচেয়ে বড় উদ্যোগ। অস্ত্রের লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রেও আরো কঠোর যাচাই আরোপ করা হবে।

খসড়া আইনগুলোর বিস্তারিত মঙ্গলবার জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।

এর আগে, গত সপ্তাহে সরকার বন্ডাই বিচে হামলার ঘটনা তদন্তে একটি রয়্যাল কমিশন গঠনের ঘোষণা দেয়। ফেডারেল রয়্যাল কমিশন—সরকারি তদন্তের সর্বোচ্চ স্তর—গোয়েন্দা ব্যর্থতা থেকে শুরু করে অস্ট্রেলিয়ায় ইহুদিবিদ্বেষের বিস্তার পর্যন্ত সব বিষয় খতিয়ে দেখবে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সাজিদ আকরাম ও তাঁর ছেলে নবীদ বন্ডাই বিচে হনুক্কাহ উৎসবে অংশ নেওয়া ইহুদিদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। ৫০ বছর বয়সী সাজিদ পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। ভারতীয় নাগরিক সাজিদ ১৯৯৮ সালে ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করেন।

তার ২৪ বছর বয়সী ছেলে নবীদ অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়া নাগরিক, বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। যার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ ও ১৫টি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।