বাসস
  ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৩২

ইরানে বিক্ষোভে শতাধিক নিহত, ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী তেহরান

ঢাকা, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার বলেছেন, ইরানের নেতৃত্ব তাকে ফোন করে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

এর আগে তিনি বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, তেহরান যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে তবে সামরিক হস্তক্ষেপে যেতে তিনি দ্বিধা করবেন না।

ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে দুই সপ্তাহ ধরে ইরানে এই বিক্ষোভ চলছে। 

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে এ আন্দোলন এখন ‘গণহত্যায়’ রূপ নিয়েছে। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত ইসলামি শাসনব্যবস্থার জন্য এই বিক্ষোভ এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

টানা কয়েকদিন ইন্টারনেট বন্ধ থাকলেও ইরান থেকে বিক্ষোভের খবর ও ভিডিও পাওয়া যাচ্ছে। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে গত তিন রাত ধরে বড় ধরনের বিক্ষোভের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। একটি মর্গের সামনে লাশের স্তূপের ছবি ও ব্যাপক প্রাণহানির খবরের মধ্যেই তেহরানের আলোচনার আগ্রহের কথা জানালেন ট্রাম্প।

প্রেসিডেন্টের বিশেষ বিমান এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘গতকাল ইরানের নেতারা ফোন করেছিলেন। একটি বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে, তারা আলোচনা করতে চায়।’

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘বৈঠকের আগেই আমাদের হয়তো কোনো ব্যবস্থা (অ্যাকশন) নিতে হতে পারে।’

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা সিএইচআরআই জানায়, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় প্রকৃত চিত্র আড়াল করা হলেও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী কয়েকশ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন এবং তারা একে ‘গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

নরওয়েভিত্তিক সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) ১৯২ জন নিহতের খবর নিশ্চিত করেছে। 

তবে তাদের মতে, প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। সংস্থাটি জানায়, যাচাই না হওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা কয়েকশ থেকে শুরু করে ২ হাজার পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া ২ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তেহরানের দক্ষিণে কাহরিজাক এলাকার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মর্গের সামনে কালো ব্যাগে মোড়ানো অসংখ্য লাশ রাখা হয়েছে। স্বজনরা সেখানে প্রিয়জনদের খুঁজছেন।

এদিকে তেহরানে জনজীবন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। মাংসের দাম দ্বিগুণ হয়েছে এবং বেশিরভাগ দোকানপাট বন্ধ। কিছু দোকান খোলা থাকলেও বিকেল ৪টা বা ৫টার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর ভয়ে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।

রোববার তেহরানের পৌনাক জেলায় বিক্ষোভকারীদের রাজতন্ত্রের পক্ষে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। 

৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শাসনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাওয়া এই বিক্ষোভ এখন বড় সংকট। গত জুনে ইসরাইলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে পর ইরান এই অভ্যন্তরীণ সংকটে পড়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বিক্ষোভের খবর এড়িয়ে পরিস্থিতি শান্ত বলে দাবি করছে। তবে সরকার সহিংসতায় নিহত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ‘শহীদ’ ঘোষণা করে তিন দিনের শোক পালন করছে। 

প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সহিংসতার প্রতিবাদে সোমবার ‘জাতীয় প্রতিরোধ মিছিল’-এর ডাক দেন।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকির প্রতিবাদে ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, হামলা হলে তারা পাল্টা জবাব দেবেন। মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ও জাহাজগুলো তাদের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত সাবেক শাহর ছেলে রেজা পাহলভি ফক্স নিউজকে জানান, তিনি দেশে ফিরে গণতান্ত্রিক উত্তরণে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত। তিনি ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি কর্মকর্তাদের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।