শিরোনাম

ঢাকা, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : দীর্ঘ আট বছর পর কানাডার কোন প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে যাচ্ছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির লক্ষ্য, কূটনৈতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে দ্বিপাক্ষিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনর্গঠন করা।
কানাডার মন্ট্রিল থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৩ থেকে ১৭ জানুয়ারির এই সফরে প্রধানমন্ত্রী কার্নি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং ও দেশটির শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সফরের লক্ষ্য হলো, বাণিজ্য, জ্বালানি, কৃষি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা খাতে দুই দেশের সহযোগিতা জোরদার করা।
কানাডার সাবেক কূটনীতিক ও আলবার্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের চায়না ইনস্টিটিউটের পরিচালক গর্ডন হোলডেন এই সফরকে একটি ‘বড় অগ্রগতি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তিনি বলেন, দুই দেশের বাণিজ্যিক সমস্যার মূলে রয়েছে রাজনৈতিক সংকট। এই সফরের মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাধান এলে তা বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এর আগে সর্বশেষ ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে কানাডার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চীন সফর করেছিলেন জাস্টিন ট্রুডো। এরপর ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের এক শীর্ষ নির্বাহীকে গ্রেফতারের পর দুই দেশের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। এর প্রতিক্রিয়ায় চীন গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দুই কানাডীয় নাগরিককে আটক করে। পরবর্তীতে কানাডার নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের অভিযোগও উঠে।
গত অক্টোবরে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলনের ফাঁকে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং মার্ক কার্নিকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান। কার্নি এই আমন্ত্রণকে দুই দেশের টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’ বা গুরুত্বপূর্ণ মোড় বলে অভিহিত করেছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে চীন কানাডার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। ২০২৪ সালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১১৮.৭ বিলিয়ন কানাডীয় ডলার (৮৫.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুরক্ষা নীতির কারণে কানাডা এখন দক্ষিণ প্রতিবেশীর ওপর থেকে অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমাতে চীনের মতো বড় বাজারের দিকে ঝুঁকছে।
২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত চীনে কানাডার রাষ্ট্রদূত থাকা গাই সাঁ-জ্যাক এএফপিকে বলেন, ‘এই সফর গুরুত্বপূর্ণ, কারণ চীন এমন এক পরাশক্তি যাকে উপেক্ষা করা যায় না।’
আলোচনায় চীনা জ্বালানি সরবরাহ ও বৈদ্যুতিক যানবাহন বিষয়ে চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে শুল্ক সংক্রান্ত জটিলতা।
২০২৪ সাল থেকে বৈদ্যুতিক গাড়ি ও ইস্পাত আমদানিতে কানাডার শুল্ক আরোপ এবং পাল্টাপাল্টি হিসেবে চীনের ক্যানোলাসহ কৃষিপণ্যে শুল্ক বসানো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে অস্থিরতা চলছে। ক্যানোলা হলো এক ধরণের তৈলবীজ, যা মূলত তেল উৎপাদনের জন্য চাষ করা হয়।
এশিয়া প্যাসিফিক ফাউন্ডেশন অব কানাডার সহ-সভাপতি ভিনা নাদজিবুল্লা বলেন, চীনের সঙ্গে কানাডার যেকোনো চুক্তির ওপর কড়া নজর রাখবে ওয়াশিংটন। এটি যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর সঙ্গে কানাডার ত্রিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই অর্থনৈতিক স্বার্থের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করা কার্নির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
বেইজিং সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী কার্নির কাতার যাওয়ার কথা রয়েছে। এরপর তিনি সুইজারল্যান্ডে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেবেন।