শিরোনাম

ঢাকা, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাষ্ট্রের হাউস স্পিকার মাইক জনসন সোমবার বলেছেন, ভেনিজুয়েলায় দ্রুত নির্বাচন হওয়া উচিত। এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরপরই ভোট আয়োজনকে ‘অপরিণত সিদ্ধান্ত’ বলে মন্তব্য করেন।
ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে জনসন জানান, ভেনিজুয়েলায় মার্কিন সেনা পাঠানোর কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না তিনি। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জনসমক্ষে এই সম্ভাবনাটি নাকচ করেননি।
রিপাবলিকান পার্টির শীর্ষ নেতা জনসন বলেন, ‘আমি আশা করছি, ভেনিজুয়েলায় দ্রুতই নির্বাচনের ডাক দেওয়া হবে। দেশটির অর্থনীতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থেই স্বল্প সময়ের মধ্যে এটি হওয়া প্রয়োজন।’
যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরে নিকোলাস মাদুরোকে অবৈধ শাসক হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছে। কারণ, ধারাবাহিক কয়েকটি নির্বাচনে পর্যবেক্ষকরা ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিলেন।
সম্প্রতি মার্কিন বাহিনীর অভিযানে মাদুরো আটক হওয়ার পর ট্রাম্প জানান, ভেনিজুয়েলার তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা এবং আমেরিকার স্বার্থ নিশ্চিত করাই এখন তাদের আসল লক্ষ্য। এ জন্য তারা দেশটির বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন নেতা ডেলসি রদ্রিগেজকে মার্কিন শর্ত মেনে কাজ করতে বাধ্য করবেন। ডেলসি আগে মাদুরো সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
তবে ভেনিজুয়েলার বিরোধীদলীয় ও গণতান্ত্রিক নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর ওপর থেকে সমর্থন সরিয়ে নিয়েছেন ট্রাম্প। নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী এই নেত্রী দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটনের সমর্থন পেয়ে আসছেন।
এর আগে রোববার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কো রুবিও বলেন, নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করার সময় এখনো আসেনি।
ভেনিজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের বৈধতা এবং কংগ্রেসকে আগে না জানানোর বিষয়ে জনসন বলেন, ‘আমরা কোনো যুদ্ধে নেই। সেখানে আমাদের কোনো সশস্ত্র বাহিনী নেই এবং আমরা দেশটি দখলও করিনি।’
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আমরা সেখানে সেনা মোতায়েনের কথা ভাবছি না। এমনকি সরাসরি কোনো হস্তক্ষেপে যাওয়ার পরিকল্পনাও আমাদের নেই; আমাদের লক্ষ্য শুধু ওখানকার নতুন অন্তর্বর্তী সরকারকে আমাদের কথা মেনে চলতে বাধ্য করা।
তবে এই ব্রিফিংয়ের পর ডেমোক্র্যাট নেতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সিনেটে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার বলেন, ‘সরকার পরিবর্তন এবং দেশ গড়ার এই খেলা সবসময় যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই ক্ষতি বয়ে আনে। এই ব্রিফিংয়ের পর আমার মনে হচ্ছে, এবারও তাই হবে।’
হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিকস এই অভিযানের সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তিনি মনে করেন, স্বাস্থ্যসেবা খরচসহ দেশের অভ্যন্তরীণ নানা সমস্যা থেকে জনদৃষ্টি সরাতেই ট্রাম্প এই পথ বেছে নিয়েছেন।