শিরোনাম

ঢাকা, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ (বাসস) : একসময় ভারত কীভাবে সমুদ্রপথে যাতায়াত করত, সেই স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করতেই সোমবার পঞ্চম শতাব্দীর নকশা থেকে অনুপ্রাণিত ভারেতের কাঠের তৈরি একটি জাহাজ প্রথমবারের মতো ভারত মহাসাগর পাড়ি দেওয়ার যাত্রা শুরু করেছে।
বিমানবাহী রণতরী, সাবমেরিন, যুদ্ধজাহাজ ও আধুনিক ইস্পাত নির্মিত ফ্রন্টলাইন জাহাজ নিয়ে বিশ্বজুড়ে সামুদ্রিক শক্তি বিস্তার করেছে ভারতের নৌবাহিনী। তবে এসব জাহাজের কোনোটিই ততটা ব্যতিক্রমী নয়, যতটা তাদের এই সর্বশেষ সংযোজন।
নয়াদিল্লি থেকে এএফপি জানায়, বিশালাকার বৈঠা দিয়ে চালিত, রাডারবিহীন এ জাহাজে মৌসুমি বায়ু ধরার জন্য দুটি স্থির চৌকো পাল রয়েছে। এটি ওমানের রাজধানী মাস্কাটের উদ্দেশে পশ্চিমমুখী প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার (৮৭০ মাইল) দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় রওনা হয়েছে।
কিংবদন্তিতুল্য ভারতীয় নাবিকের নামে জাহাজটির নাম রাখা হয়েছে ‘কৌণ্ডিন্য’। ২০ মিটার (৬৫ ফুট) দীর্ঘ এর দেহ কাঠের পাটাতন পেরেক দিয়ে নয়, বরং নারিকেলের ছোবড়া দিয়ে তৈরি দড়ি দিয়ে সেলাই করা।
গুজরাটের পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দর শহর পোরবন্দর থেকে জাহাজটির পতাকা উত্তোলনকালে ভাইস অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথন বলেন, ‘এই যাত্রা অতীত ও বর্তমানকে পুনঃসংযুক্ত করছে।’ তিনি জানান, আরব উপদ্বীপে পৌঁছতে আনুমানিক দুই সপ্তাহ সময় লাগবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কেবল প্রাচীন বাণিজ্য, নৌপরিবহন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের পথগুলো পুনরায় অনুসরণ করছি না, বরং ভারত মহাসাগরজুড়ে একটি স্বাভাবিক সামুদ্রিক সেতু হিসেবে ভারতের অবস্থানও পুনঃনিশ্চিত করছি।’
এই যাত্রা স্মরণ করিয়ে দেয় সেই সময়কে, যখন ভারতীয় নাবিকেরা রোমান সাম্রাজ্য, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা এবং পূর্বদিকে আজকের থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, চীন এমনকি জাপান পর্যন্ত নিয়মিত বাণিজ্য করতেন।
স্বামীনাথন বলেন, ‘এই যাত্রা শুধু প্রতীকী নয়। এটি আমাদের জাতির জন্য গভীর কৌশলগত ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য বহন করে—কারণ আমরা প্রাচীন ভারতীয় সামুদ্রিক ধারণা ও সক্ষমতাকে সব দিক থেকে পুনরুজ্জীবিত করতে চাই।’
এই যাত্রা সহজ নয়। নির্মাতারা আধুনিক কোনো শর্টকাট গ্রহণ করেননি; বরং প্রাচীন ভারতীয় নাবিকদের ব্যবহৃত ঐতিহ্যবাহী জাহাজ নির্মাণ পদ্ধতির ওপরই নির্ভর করেছেন।
জাহাজটির ১৮ সদস্যের নাবিকদল ইতোমধ্যে ভারতের পামগাছে ঘেরা উপকূল বরাবর কর্ণাটক থেকে গুজরাট পর্যন্ত উত্তরমুখী নৌযাত্রা সম্পন্ন করেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতে নিযুক্ত ওমানের রাষ্ট্রদূত ইসা সালেহ আলশিবানি বলেন, ‘আমাদের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে ভারত মহাসাগরকে সীমারেখা নয়, বরং বাণিজ্য, ধারণা, সংস্কৃতি ও বন্ধুত্ব বহনকারী একটি সেতু হিসেবে দেখেছে।’
তিনি বলেন, ‘যে মৌসুমি বাতাস একসময় আমাদের বন্দরগুলোর মধ্যে ঐতিহ্যবাহী জাহাজ চালিত করত, তা সঙ্গে করে নিয়ে আসত এই উপলব্ধি—সংযুক্ত, উন্মুক্ত ও সহযোগিতামূলক থাকলেই সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়।’