বাসস
  ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:২৭

জিহাদিদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা নাইজার জান্তার

ঢাকা, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ (বাসস) : নাইজারে দীর্ঘদিনের জিহাদি বিদ্রোহের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষে দেশটির সামরিক সরকার মানুষ ও সম্পদ অধিগ্রহনের অনুমোদন দিয়েছে।  

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয় বলে শনিবার এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

২০২৩ সালের জুলাইয়ে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বাজুমকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই একাধিক ফ্রন্টে ইসলামপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার মুখে পড়েছে দেশটির সামরিক শাসকগোষ্ঠী।

সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়, সাধারণ সমাবেশ চলাকালে দেশের প্রতিরক্ষায় অবদান রাখতে আইন ও বিধি মেনে জনগণ, সম্পদ ও সেবা বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। 

এতে আরও বলা হয়, ‘প্রত্যেক নাগরিককে যে কোনো ডাকে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দিতে হবে এবং দেশের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা বাস্তবায়নে বিলম্ব ছাড়াই সহযোগিতা করতে হবে।’

বিবৃতিতে জানানো হয়, জাতীয় ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গত এক দশক ধরে নাইজার আল-কায়েদা ও ইসলামিক জিহাদ সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর সহিংস বিদ্রোহের মুখে রয়েছে। 
সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী এনজিও এসিএলইডি’র তথ্য অনুযায়ী, এ সহিংসতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। 

দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বোকো হারাম ও তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী আইএসডব্লিউএপিও সক্রিয় রয়েছে।

পাঁচ বছর আগে নাইজার সেনাবাহিনীর সদস্য সংখ্যা দ্বিগুণ করে ৫০ হাজারে উন্নীত করা হয় এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবসরের বয়স ৪৭ থেকে বাড়িয়ে ৫২ বছর করা হয়। 

সামরিক সরকার ২০২৩ সাল থেকে একটি তহবিলে ‘স্বেচ্ছাসেবী’ অনুদান দেওয়ার জন্য নাগরিকদের আহ্বান জানিয়ে আসছে। সামরিক সরঞ্জাম ও কৃষি প্রকল্পে এই অনুদান ব্যয় করা হচ্ছে।

ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই নাইজারের সামরিক শাসকরা জিহাদি দমনে নিয়োজিত ফরাসি ও মার্কিন সেনাদের দেশ ছাড়তে বলেন। 

বর্তমানে নাইজার, মালি ও বুরকিনা ফাসো— এই তিন সামরিক শাসিত দেশ যৌথভাবে পাঁচ হাজার সদস্যের একটি বিরোধী-জিহাদি বাহিনী গঠন করেছে।