শিরোনাম

ঢাকা, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫ (বাসস) : ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা শনিবার বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলের জন্য একটি ‘মানবিক বিপর্যয়’ ডেকে আনবে। দক্ষিণ আমেরিকার মারকোসুর জোটের শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ব্রাজিলের ফোজ দো ইগুয়াসু থেকে এএফপি জানায়, ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে লুলার এ মন্তব্য এলো। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার শক্তিশালী নেতা নিকোলাস মাদুরোর সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় অঞ্চলে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। তারা অঞ্চলটিতে এবং প্রশান্ত মহাসাগরে কথিত মাদকবাহী নৌযানের ওপর বিমান হামলাও চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব পদক্ষেপ মাদক পাচার দমনের অংশ।
তবে মাদুরো বলেছেন, এই অভিযান কারাকাসে সরকার পরিবর্তনের একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ।
দক্ষিণ ব্রাজিলের শহর ফোজ দো ইগুয়াসুতে লুলা বলেন, ‘ফকল্যান্ডস যুদ্ধের চার দশক পর দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ আবারও একটি বিদেশি শক্তির সামরিক উপস্থিতির আতঙ্কে ভুগছে।’ তিনি ১৯৮২ সালে দক্ষিণ আটলান্টিকের বিতর্কিত দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাজ্য-আর্জেন্টিনা সংঘাতের প্রসঙ্গ টানেন।
তিনি বলেন, ‘ভেনেজুয়েলায় একটি সশস্ত্র হস্তক্ষেপ পুরো গোলার্ধের জন্য মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনবে এবং বিশ্বের জন্য একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।’
এনবিসি নিউজকে বৃহস্পতিবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সম্ভাব্য যুদ্ধ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সেটি উড়িয়ে দিচ্ছি না, না।’
বৃহস্পতিবার লুলা বলেন, ব্রাজিলের একেবারে দোরগোড়ায় সৃষ্ট এই সংকট নিয়ে তিনি ‘খুবই উদ্বিগ্ন’ এবং সশস্ত্র সংঘাত এড়াতে তিনি মধ্যস্থতার ভূমিকা নিতে প্রস্তুত।
৮০ বছর বয়সী এই বামপন্থী নেতা বলেন, তিনি ট্রাম্পকে জানিয়েছেন যে ‘গুলি চালিয়ে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না; বরং সমাধান খুঁজতে আলোচনার টেবিলে বসাই ভালো।’
কথিত মাদকবাহী নৌযানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত ১০৪ জন নিহত হয়েছেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এখনো কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ দেয়নি যে তারা যেসব নৌযান লক্ষ্যবস্তু করেছে, সেগুলো সত্যিই মাদক পরিবহন করছিল।
যুক্তরাষ্ট্র সরকার মাদুরোর বিরুদ্ধে ‘কার্টেল অব দ্য সানস’-এর নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ এনেছে, যা তিনি অস্বীকার করেছেন।
ট্রাম্প আরও ঘোষণা দিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা এবং ভেনেজুয়েলা থেকে যাতায়াতকারী তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করা হবে।