বাসস
  ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১২:০৭

শ্রীলঙ্কার রাজধানীতে বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৯

ঢাকা, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ (বাসস) : শ্রীলঙ্কায় একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় এবং এর প্রভাবে সৃষ্ট ভারী বর্ষণ ও বন্যার ফলে দেশজুড়ে মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে।

শ্রীলঙ্কার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রোববার রাজধানীর কিছু অংশে ক্রমবর্ধমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। 

দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি) জানিয়েছে, প্রবল বর্ষণের কারণে কেলানি নদীর পানির স্তর বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় কলম্বোর উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে।

শনিবার শ্রীলঙ্কা থেকে সরে আসা ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহের কারণে এক সপ্তাহ ধরে ভারী বৃষ্টিপাতের পর ডিএমসি জানিয়েছে, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১৫৯ জনে পৌঁছেছে এবং আরও ২০৩ জন নিখোঁজ রয়েছে।

ডিএমসি’র এক কর্মকর্তা বলেন, যদিও ঘূর্ণিঝড়টি আমাদের দেশ ছেড়ে চলে গেছে। কিন্তু এর প্রভাবে উজানের দিকে ভারী বৃষ্টিপাত এখন কেলানি নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলোকে প্লাবিত করছে।

ঘূর্ণিঝড়ের পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় শনিবার শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমার দিশানায়েকে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন এবং আন্তর্জাতিক সাহায্যের জন্য আবেদন জানান।

অনুরা কুমার দিশানায়েকের এই আহ্বানে ভারতই প্রথম সাড়া দেয়। ভারত বন্যা উপদ্রুত এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করার জন্য শ্রীলঙ্কায় দুটি হেলিকপ্টারসহ উদ্ধারকারী দল পাঠিয়ে। এছাড়া প্রতিবেশী দেশটি ত্রাণ সরবরাহ করেছে। 

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

জাপান জানিয়েছে যে তারা তাৎক্ষণিক চাহিদা মূল্যায়নের জন্য একটি দল পাঠাবে এবং দেশটি আরও সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এদিকে, ডিএমসি জানিয়েছে যে দ্বীপজুড়ে বৃষ্টিপাত কমে গেলেও, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মধ্য প্রদেশের বেশ কয়েকটি রাস্তায় এখনো প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি। 

প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ২০ হাজারেরও বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে এবং ১ লাখ ২২ হাজার মানুষকে রাষ্ট্র পরিচালিত অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

বন্যার কারণে বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে বহু মানুষ অবস্থান করছেন। এখন আরও ৮ লাখ ৩৩ হাজার মানুষকে সহায়তার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

ত্রাণ প্রচেষ্টায় সহায়তা করার জন্য বেসামরিক কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর সৈন্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে দেশের প্রায় এক তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ ও খাবার পানির অভাব রয়েছে। বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং পানি পরিশোধন কেন্দ্রগুলোও বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ইন্টারনেট সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

২০১৭ সালের পর থেকে এই ঘূর্ণিঝড় শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। 

২০১৭ সালের ওই বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় দেশটির ২ শতাধিক বেশি মানুষ প্রাণ হারায় এবং আরো লাখ লাখ লোক নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।

শতাব্দীর শুরুর পর সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা ঘটে ২০০৩ সালের জুন মাসে। ওই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ২৫৪ জন মারা যায়।