শিরোনাম

ঢাকা, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫ (বাসস) : মার্স ও কিটক্যাটসহ বিশ্বের পরিচিত চকলেট ব্রান্ডগুলো সবার সামনে টেকসই উৎপাদনের প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু বাস্তবে এসব চকলেটের কোকো হতে পারে লাইবেরিয়ার রেইনফরেস্টে বন ধ্বংসের সঙ্গে যুক্ত।
আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল উইটনেসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এমন অভিযোগ সামনে এসছে।
মনরোভিয়া থেকে এএফপি এ খবর জানায়।
সংগঠনটি বলেছে, লাইবেরিয়ায় এখনও আপার গিনিয়ান রেইনফরেস্টের সবচেয়ে বড় অংশ অক্ষত রয়েছে। সেখানে শিম্পাঞ্জি ও হাতির মত বিপন্ন প্রাণীর বসবাস রয়েছে।
লাইবেরিয়ার সবচেয়ে বড় কোকো উৎপাদনকারী ওই এলাকাটি ‘কোকো বেল্ট’ নামে পরিচিত। ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে অঞ্চলটির প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর (৬ লাখ ১৮ হাজার একর) বন উজাড় হয়েছে।
কোকোর দাম বৃদ্ধি এবং প্রতিবেশি দেশগুলোতে ফলন কমে যাওয়ায় লাইবেরিয়া থেকে কোকো রপ্তানি বেড়েছে। ফলে কৃষিজমির পরিধিও দ্রুত বাড়ানো হচ্ছে।
গ্লোবাল উইটনেস জানায়, রপ্তানিকারকরা মূলত স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ওপর নির্ভর করেন। তারা উৎস যাচাই না করে সব ধরনের কোকো কিনে নেন। যার মধ্যে বন উজাড় করে উৎপাদিত বীজও থাকে।
এরপর এই বনধ্বংসের কোকোকে সার্টিফায়েড এবং যাচাই করা কোকোর সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়। পরে কোম্পানিগুলো এই চকলেটকে ‘টেকসই’ বলে বিক্রি করে, যদিও আসলে তা পুরোপুরি টেকসই নয়।
এই অনুসন্ধানে হার্শি, মনডেলেজ (ক্যাডবেরি), নেসলে, ইউনিলিভার এবং মার্সের মতো বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের নামও উঠে এসেছে।
গ্লোবাল উইটনেসের তদন্তকারী চার্লি হ্যামানস বলেন, বড় ব্র্যান্ডগুলো অজানা উৎসের কোকো কিনছে, কিন্তু তার আড়ালে বিপুল পরিমাণ বন ধ্বংসের গল্প লুকিয়ে রয়েছে।
এই প্রতিবেদন এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন বন উজাড়ে অবদান রাখছে এমন পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ বিষয়ক আইন নিয়ে ভোটাভুটির প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপীয় সংসদ। তবে আইনটি এখনই কার্যকর করা হবে না। এটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকরের সময় ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ আইনটি কার্যকর হওয়ার পর ইউরোপে চকলেট বিক্রি করতে হলে পণ্যটির উৎস কোথায় এবং তা বন উজাড়মুক্ত কিনা সেটা কোম্পানিকে প্রমাণ করতে হবে।
গ্লোবাল উইটনেস জানায়, গত তিন বছরে কার্গো জাহাজে লাইবেরিয়া থেকে রপ্তানি করা সমস্ত কোকোর শুল্ক তথ্য তারা বিশ্লেষণ করেছে। পাশাপাশি বং, নিম্বা ও লোফা কাউন্টির বন উজাড়ের উপাত্ত ব্যবহার করে ‘কোকো বেল্টে’ মোট বনভূমি ধ্বংসের হিসাব করা হয়েছে।
সংস্থাটি আরও বলেছে, কোকোর পাশাপাশি ক্ষুদ্র কৃষি, খনি কার্যক্রম, পাম তেল ও রাবার উৎপাদনও বন উজাড়ে সমানভাবে দায়ী।
এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে স্পষ্ট হয় বিশ্বের পরিচিত চকলেট ব্র্যান্ডগুলোর আড়ালে থাকা বন ধ্বংসের বাস্তবতা। বিষয়টি সাধারণ ক্রেতাদের দৃষ্টি এড়িয়ে গেলেও প্রকৃতির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।