বাসস
  ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১১:৩৪

হংকংয়ে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১২৮, তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন শুরু

ঢাকা, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫ (বাসস) : হংকংয়ে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২৮ জন নিহত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায়  হংকংয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের  স্মরণে  এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন আজ থেকে শুরু হয়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

চীনের জাতীয় পতাকা ও হংকংয়ের পতাকা অর্ধনমিত রেখে সরকারি সদর দপ্তরের সামনে শহরপ্রধান জন লি, তার মন্ত্রিসভার সদস্য ও শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাগণ আজ স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় তিন মিনিট নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে শ্রদ্ধা জানানোর মাধ্যমে শোকের প্রথম দিন শুরু করেন।

এএফপির সাংবাদিকেরা জানিয়েছেন, এর কয়েক ঘণ্টা আগে ওয়াং ফুক কোর্টে পোড়া ভবনের সামনে নাগরিকদের ফুল রাখতে ও শ্রদ্ধা জানাতে দেখা গেছে। এই আবাসিক কমপ্লেক্সটি টানা ৪০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জ্বলছিল। 

ঘটনাস্থলে রাখা একটি স্মরণলিপিতে লেখা রয়েছে, ‘স্বর্গে আপনাদের আত্মা যেন আনন্দে থাকে।’

সরকার জানিয়েছে, হংকং জুড়ে জনসাধারণের শোক বইতে স্বাক্ষর করার জন্য শোক কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

পরিবারগুলো তাদের প্রিয়জনদের খুঁজে পাওয়ার আশায় হাসপাতাল এবং ভুক্তভোগী শনাক্তকরণ স্টেশনগুলোতে তল্লাশি চালাচ্ছে। প্রায় ২০০ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছে এবং ৮৯ জনের মৃতদেহ এখনো শনাক্ত করা হয়নি।

শুক্রবার শহরের দুর্নীতি দমন সংস্থা অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ১৯৮০ সালের পর বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ আবাসিক ভবনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এটি।

বুধবার অপরাহ্নে শহরের উত্তরাঞ্চলীয় তাই পো এলাকার ঘনবসতিপূর্ণ এই কমপ্লেক্সে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আটটি বহুতল ভবনের মধ্যে সাতটিকে ভয়াবহ ভাবে আগুন লেগে যায়। 

কর্তৃপক্ষ বলেছে, আগুনের কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে একটি টাওয়ারের নিচের তলার প্রতিরক্ষামূলক জাল থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে এবং ‘অত্যন্ত দাহ্য’ ফোম বোর্ড ও বাঁশের মাচা আগুন ছড়িয়ে পড়ায় বড় ভূমিকা রাখে বলে মনে হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিস প্রধান অ্যান্ডি ইয়াং জানান, সবগুলো ভবনে অগ্নিসংকেত ব্যবস্থা ‘অকার্যকর’  ছিল’, এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাসিন্দারা এএফপিকে বলেন, তারা কোনো অ্যালার্ম শুনতে পাননি; বরং দরজায় দরজায় গিয়ে প্রতিবেশীদের সতর্ক করেছেন।