শিরোনাম
ঢাকা, ৩০ আগস্ট, ২০২৫(বাসস) : চীন আয়োজিত শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শনিবার সন্ধ্যায় চীনের তিয়ানজিন শহরে পৌঁছেছেন। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০টিরও বেশি দেশের নেতাদের অংশগ্রহণের একদিন আগেই তিয়ানজিনে পৌঁছেছেন।
সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলন রোববার এবং সোমবার উত্তর বন্দর নগরীতে অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নিকটবর্তী বেইজিংয়ে একটি বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজের কয়েকদিন আগে এই সম্মেলন আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে।
চীনের তিয়ানজিন থেকে এএফপি আজ এই খবর জানিয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার কিম জং উন প্রায় ২৬ জন বিশ্বনেতার মধ্যে কুচকাওয়াজে যোগ দিবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এদিকে বৃহস্পতিবার চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণকারীদের তালিকায় মোদীর নাম ছিল না।
২০১৮ সালের পর প্রায় সাত বছর পর জাপান সফরের ঠিক পরেই মোদীর এই প্রথম চীন সফর। মোদির জাপান সফরে ভারতে ৬৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দু’টি দেশ চীন এবং ভারত, দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে প্রভাব বিস্তারের জন্য তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বী এবং ২০২০ সালে একটি মারাত্মক সীমান্ত সংঘর্ষের মুখোমুখি হয়েছিল।
গত অক্টোবরে রাশিয়ায় একটি শীর্ষ সম্মেলনে পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে মোদীর সাক্ষাতের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু হয়েছিল।
এসসিওতে চীন, ভারত, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান এবং বেলারুশ অন্তর্ভুক্ত। আরো ১৬টি দেশ পর্যবেক্ষক বা ‘সংলাপ অংশীদার’ হিসেবে যুক্ত।
শনিবার থেকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত এবং মিশরের প্রধানমন্ত্রী মুস্তফা মাদবোলিসহ নেতাদের স্বাগত জানাতে শুরু করেছেন।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনেরও শীর্ষ সম্মেলনের আগে তিয়ানজিনে আসার কথা রয়েছে।
চীন ও রাশিয়া মধ্য এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোর সাথে সম্পর্ক আরো গভীর করার জন্য এসসিও গঠন করা হয়েছে - যা কখনও কখনও পশ্চিমা-প্রভাবিত ন্যাটো সামরিক জোটের পাল্টা হিসাবে প্রচারিত হয়।
ইরান ও তুর্কি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানসহ অন্যান্য নেতারাও ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ব্লকের বৃহত্তম বৈঠকে যোগ দেবেন।
শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
শুক্রবার ক্রেমলিন জানিয়েছে, পুতিন সোমবার এরদোয়ানের সাথে ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে আলোচনা করবেন।
তুরস্কে চলতি বছর রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে তিন দফা শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে মস্কোর ইউরোপপন্থী প্রতিবেশী দেশটিতে আগ্রাসন শুরু করার পর সংঘাতের অবসান ঘটানোর বিষয়ে অচলাবস্থা ভাঙতে ব্যর্থ হয়েছে।
সোমবার পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সাথে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করবেন। এই বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন ইরান নতুন করে পশ্চিমা চাপের মুখোমুখি হচ্ছে।
২০১৫ সালের পরমাণু কর্মসূচি চুক্তিতে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়ার পর ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানি, যা ই-৩ নামে পরিচিত বৃহস্পতিবার ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের জন্য একটি ‘স্ন্যাপব্যাক’ প্রক্রিয়া চালু করেছে।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে দিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের ফলে ‘অপূরণীয় পরিণতি’ হতে পারে।
রাশিয়া পশ্চিমা বিশ্ব থেকে দূরে সরে যাওয়ার পর গত এক দশক ধরে তেহরান এবং মস্কো রাজনৈতিক, সামরিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করে আসছে।
ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার আক্রমণ শুরু করার পর তাদের মধ্যে সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হয়।