বাসস
  ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১১:০৬

নিষেধাজ্ঞার তীব্র প্রতিক্রিয়া জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থার সাথে সহযোগিতাকে ‘ক্ষুণ্ন’ করার জন্য : ইরান

ঢাকা, ২৯ আগস্ট, ২০২৫ (বাসস) : ইরান বৃহস্পতিবার বলেছে, ২০১৫ সালের মৃতপ্রায় পরমাণু চুক্তির অধীনে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের একটি প্রক্রিয়া চালুর জন্য ইউরোপীয় শক্তিগুলোর সিদ্ধান্ত জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থার সাথে তেহরানের সহযোগিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

তেহরান থেকে এএফপি আজ এই খবর জানিয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপকে ‘উস্কানিমূলক এবং অহেতুক উত্তেজনা’ বলে অভিহিত করেছে। ‘তিনটি ইউরোপীয় দেশের এই সিদ্ধান্ত ইরান এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মধ্যে চলমান মিথস্ক্রিয়া এবং সহযোগিতার প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।’

ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানি - যা ই-৩ নামে পরিচিত - ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির অধীনে ইরানের প্রতিশ্রুতি অব্যাহতভাবে মেনে না চলার কথা উল্লেখ করে কয়েক সপ্তাহের সতর্কবার্তার পর তথাকথিত ‘স্ন্যাপব্যাক’ প্রক্রিয়া চালু করেছে।

জেনেভায় ইরান ও ইউরোপীয় কূটনীতিকদের মধ্যে আলোচনার মাত্র কয়েকদিন পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হল। এই বছর ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর পর এটি দ্বিতীয়বারের মতো আলোচনা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতি অনুসারে, ইরানের ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের সাথে একটি পূর্ববর্তী ফোনালাপে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছিলেন, তেহরান তার জাতীয় অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা নিশ্চিত করার জন্য ‘এই অবৈধ এবং অযৌক্তিক পদক্ষেপের যথাযথ প্রতিক্রিয়া জানাবে।’

তিনি তিনটি দেশকে ‘আগামী দিনে এই ভুল সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে সংশোধন করার’ আহ্বান জানিয়েছেন।

যদিও আরাঘচি ইরান কী পদক্ষেপ নিতে পারে তা নির্দিষ্ট করে বলেননি। তেহরান পূর্বে সতর্ক করে দিয়েছে, এই ধরনের পদক্ষেপের ফলে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যতের যেকোনো আলোচনা থেকে ইউরোপীয় শক্তিগুলোকে বাদ দেওয়া হতে পারে।

বুধবার ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাদি বলেছেন, যদি স্ন্যাপব্যাক শুরু হয়, তাহলে ‘আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার সাথে আমরা এখন যে মিথস্ক্রিয়ার পথ খুলে দিয়েছি তা সম্পূর্ণরূপে প্রভাবিত হবে এবং সম্ভবত বন্ধ হয়ে যাবে।’

ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত বুশেহরের গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু স্থাপনায় জ্বালানি প্রতিস্থাপন কার্যক্রম তদারকি করার জন্য আইএইএ পরিদর্শকদের ইরানে ফিরে আসার পর তিনি এই মন্তব্য করেন।

ইসরাইলি ও মার্কিন হামলার নিন্দা জানাতে সংস্থাটির ব্যর্থতার কারণে ইরান সংস্থাটির সাথে সহযোগিতা স্থগিত করার পর এটিই ছিল প্রথম আইএইএ দল যারা সেখানে পৌঁছেছে।

তেহরান তখন থেকে বলেছে, সংস্থার সাথে ভবিষ্যতের সহযোগিতা ‘একটি নতুন রূপ’ নেবে।

ইসরাইলের সাথে ১২ দিনের যুদ্ধ তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরমাণু আলোচনাকেও ব্যাহত করেছে, যা এপ্রিল মাসে ২০১৫ সালের ব্যর্থ চুক্তি প্রতিস্থাপনের লক্ষ্যে শুরু হয়েছিল।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার প্রথম মেয়াদে একতরফাভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার এবং ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার সময় ২০১৫ সালের চুক্তিটি বাতিল করা হয়েছিল।