বাসস
  ২৪ মে ২০২৫, ১৩:২৪
আপডেট : ২৪ মে ২০২৫, ১৩:৪৩

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পঞ্চম দফার আলোচনা শেষ হলেও চুক্তি নিয়ে সন্দেহ

ঢাকা, ২৪ মে, ২০২৫ (বাসস) : ইতালির রোমে গতকাল শুক্রবার ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পঞ্চম দফা বৈঠকের পরও নিজ নিজ অবস্থানে অটল দুই দেশ। তবে, এবারের আলোচনায় বেশ কিছু নতুন প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে বলে জানায় ওমান। যা নিয়ে দেশগুলোর রাজধানীতে আলোচনার কথা রয়েছে।

রোম থেকে ‘তাস’ এই খবর জানায়।

আলোচনার পর আলোচনা হলেও মিলছে না সমাধান। অথচ যোগ হচ্ছে নিত্যনতুন শর্ত। সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক বিতর্ক। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু চুক্তি বিষয়ে পঞ্চম দফা বৈঠকেও মেলেনি কার্যকর সমাধান। বাড়ছে শুধু সন্দেহ।

আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী ওমান জানিয়েছে, এবারের বৈঠকে কিছু নতুন প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছে। যেগুলো নিয়ে এখন দুই দেশ নিজেদের আলোচনা করবে বলে জানিয়েছে। সেই অনুযায়ী নির্ধারিত হবে পরবর্তী বৈঠকের সময়। তবে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দুই-তিনটি বৈঠকে এই জটিল সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

রোমে ওমান দূতাবাসে পাঁচ দফা আলোচনার শেষ দিনে আরাঘচি বলেছেন, এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সবচেয়ে পেশাদার বৈঠকগুলোর একটি। তিনি আরো জানিয়েছেন, ইরান তার নীতিগত অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। এখন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষেও বিষয়গুলো আরো পরিষ্কার বলে মনে করছেন তারা। তবে তিনি জোরালো কন্ঠে বলেছেন, চুক্তি হোক বা না হোক ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরন কর্মসূচি থেকে চুল পরিমাণও পিছপা হবে না।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলি বাঘেরি বলেছেন, নতুন করে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার দরজা খোলা হয়েছে। তবে একতরফাভাবে চাপে ফেলে কিছু আদায় করা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে, ওয়াশিংটনও নিজ অবস্থানে অটল। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সরাসরি বলেছেন, ইরানকে ৬০ শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিও সীমিত রাখতে হবে।

এই দাবিকে ‘অতিরিক্ত ও অন্যায্য’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে ‘অমানবিক ও বেআইনি’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন।

ইরান বলেছে, তারা পরমাণু চুক্তি মেনে চলতে চায়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে বিশ্বাসযোগ্য প্রতিশ্রুতি পেলে তবেই তারা এই পথে এগোবে। বিশেষ করে, ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন যে একতরফাভাবে চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে এমনটাই দাবি তাদের।