বাসস
  ১৮ মে ২০২৬, ২০:০৭

হাম প্রতিরোধে শিশুদের মায়ের দুগ্ধ পান ও ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনের ওপর গুরুত্বারোপ

ছবি: বাসস

ঢাকা, ১৮ মে, ২০২৬ (বাসস) : হাম প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে শিশুদের মায়ের বুকের দুগ্ধ পান নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। একই সঙ্গে তারা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা এবং টিকাদান কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়ন করার পরামর্শ দিয়েছেন।

আজ সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) ‘বাংলাদেশে হামের পুনরুত্থান: আজকের সংক্রমণ ও আগামী দিনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি’ শীর্ষক সেমিনারে তারা এসব কথা বলেন। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এ’ ব্লক অডিটোরিয়ামে সেন্ট্রাল সেমিনার সাব কমিটির উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

বিএমইউ’র শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জেসমিন মোর্শেদ তার উপস্থাপিত প্রবন্ধে বলেন, হাম প্রতিরোধযোগ্য রোগ, কিন্তু টিকা কভারেজের ঘাটতির কারণে প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এ রোগে ৫ বছরের কম বয়সী ও অপুষ্ট শিশুদের ঝুঁকি বেশি এবং জটিলতা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। টিকাদান, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, দ্রুত শনাক্তকরণ, আইসোলেশন ও দ্রুত চিকিৎসাই হাম নিয়ন্ত্রণের মূল উপায়।

ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শারমিন সুলতানা ‘হাম: নির্মূলের স্বপ্ন থেকে প্রাদুর্ভাবের বাস্তবতা’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধে বলেন, বাংলাদেশে ইপিআই কর্মসূচি সম্প্রসারণের মাধ্যমে শিশুর টিকাদান বৃদ্ধি পাওয়ায় হামজনিত মৃত্যু ও জটিলতা অনেকাংশে হ্রাস পায়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আবারও বিভিন্ন দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। টিকা গ্রহণে অনীহা, কোভিড-১৯ মহামারির সময় নিয়মিত টিকাদান ব্যাহত হওয়া, অপুষ্টি, জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং অভিবাসন ইত্যাদি কারণে অনেক শিশু টিকার বাইরে থেকে যাচ্ছে। ফলে সমাজে হার্ড ইমিউনিটি দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, অপুষ্ট শিশুদের মধ্যে হামে মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেশি। হাম নির্মূলের লক্ষ্য অর্জন করতে হলে শুধু টিকা আবিষ্কার যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সবার জন্য সমান টিকাদান নিশ্চিত করা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং শক্তিশালী নজরদারি ব্যবস্থা। নির্মূলের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনতেই হবে।

ভাইরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এস এম রাশেদ উল ইসলাম ‘বাংলাদেশে হামের পুনরুত্থান: আজকের সংক্রমণ, আগামী দিনের ঝুঁকি’ শীর্ষক প্রবন্ধে বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে সক্রিয় হাম সংক্রমণ চলছে এবং টিকাদান ঘাটতি ও বিলম্বিত ইপিআই ডোজের কারণে শিশুদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বড় ফাঁক তৈরি হয়েছে। তাই জরুরি টিকাদান, ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্টেশন, পুষ্টি পুনর্বাসন, নিয়মিত ইপিআই কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ ও কভারেজ মনিটরিং অপরিহার্য।

সেন্ট্রাল সেমিনার সাব কমিটির সভাপতি ভাইরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. আফজালুন নেছার সভাপতিত্বে এবং ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. খালেদ মাহবুব মুর্শেদ মামুনের সঞ্চালনায় সেমিনারে  বিএমইউ’র উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার বক্তব্য রাখেন।

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ তার বক্তব্যে রোগীদের সেবা প্রদানকালে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য রোগীর স্বজনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালিয়ে চিকিৎসা সেবায় বাধা দেবেন না, মুক্তমনে চিকিৎসা করতে দিন। তবেই আমরা অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারব।

অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার হামে আক্রান্ত শিশুদের জীবন রক্ষা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিশুদের মায়েদের বুকের দুগ্ধপান নিশ্চিত করা, অপুষ্টি দূরীকরণ এবং সার্বিক ও সঠিক ব্যবস্থাপনার ওপর জোর তাগিদ দেন।