শিরোনাম

ঢাকা, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : ইনোভেনশন হাব (আইহাব) নিয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) আয়োজিত এক ওরিয়েন্টেশন সেশনে বক্তারা স্বাস্থ্যসেবায় বিএমইউ-কে এশিয়ার সেরা ইনোভেশন হাবে উন্নীত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
একই সঙ্গে গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতে ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আইহাব-কে গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
আজ শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষা, গবেষণা ও স্বাস্থ্যখাতে উদ্ভাবনভিত্তিক কার্যক্রমকে আরো গতিশীল ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া।
অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও অ্যাডভান্সড ইন্টেলিজেন্ট মাল্টিডিসিপ্লিনারি সিস্টেমস ল্যাবের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক খন্দকার এ. মামুন। তিনি ইনোভেশন হাব প্রতিষ্ঠা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক রূপান্তর এবং একটি কার্যকর ইনোভেশন ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ই হলো ইনোভেশনের মূল চালিকাশক্তি। ১০টি আইডিয়ার মধ্যে একটি সফল হলেও সেটিই বাকি ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পারে। তাই এখনই আইডিয়াকে ইনকিউবেট করার উপযুক্ত সময়।
রিসার্চ, ইনোভেশন, ইনকিউবেশন ও কমার্শিয়ালাইজেশন— এই চার ধাপ অনুসরণ করে এগিয়ে যাওয়ার ওপরও জোর দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএমইউর উপাচার্য ও আইহাব এক্সিকিউটিভ বডির চেয়ারপারসন প্রফেসর ডা. এফ. এম. সিদ্দিকী। তিনি আধুনিক চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণায় উদ্ভাবনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘অথেনটিক ডেটা এখন অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ। সঠিকভাবে ডেটা সংরক্ষণ ও এআই প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে বিএমইউ উদ্ভাবনভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।’
ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান ও আইহাব আরঅ্যান্ডডি লিড অধ্যাপক ডা. এম. এ. শাকুর বলেন, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতে ইতিবাচক পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিএমইউ গড়ে উঠবে।
অনুষ্ঠানে একটি প্রাণবন্ত ইন্টার্যাকটিভ আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইনোভেশন, ইনকিউবেশন ও মেন্টরশিপয়ের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতে এই ইনোভেশন হাব-কে একটি 'সেন্টার অব এক্সেলেন্স' হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে।
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আইহাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগটি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মাধ্যমে গৃহীত হয়েছে এবং এটি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এ-টু-আই) প্রোগ্রামের সঙ্গে সমন্বিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ২০২৫ সালের আগস্টে বিএমইউতে আইহাব-জি অপারেশনাল গাইডলাইন প্রেরণের পর প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয় এবং ইতোমধ্যে একটি নির্বাহী কাঠামো গঠন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলামসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনবৃন্দ, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক, চিকিৎসক ও রেসিডেন্টরা।
সমাপনী বক্তব্যে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, ইনোভেশন হাবের মাধ্যমে বিএমইউ শুধু দেশেই নয়, বিশ্বপরিসরেও স্বাস্থ্যখাতে উদ্ভাবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিকাশ লাভ করবে।