বাসস
  ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:২৯

বিএমইউর ম্যাক্সিলোফেসিয়াল বিভাগে জটিল ও ব্যতিক্রমধর্মী সার্জারিতে সাফল্য

বিএমইউ এর ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি বিভাগে এক জন্মগত থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত কিশোরীর সব অকার্যকর দাঁত অপসারণ করে দুই চোয়ালে আধুনিক সাবপেরিওস্টিয়াল ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট করা হয়। ছবি : বিএমইউ

ঢাকা, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)-এর ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি বিভাগে এক বিরল ও জটিল সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা দেশের চিকিৎসা খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জানা যায়, ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরী দীর্ঘদিন ধরে জন্মগত রক্তের রোগ থ্যালাসেমিয়ায় ভুগছিল। পরবর্তীতে তার শরীরে বিরল রোগ লিউকোসাইট অ্যাডহেশন ডিজিজ শনাক্ত হয়। এই দুই জটিল রোগের কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। ফলে তার মুখগহ্বরে গুরুতর পেরিওডন্টাইটিস (মাড়ির রোগ) দেখা দেয়; যা ধীরে ধীরে তার সব দাঁতকে নড়বড়ে ও অকার্যকর করে তোলে।

চিকিৎসকরা জানান, দাঁতগুলো কার্যকর না থাকায় রোগী স্বাভাবিকভাবে খাবার গ্রহণ করতে পারছিল না, যা তার সামগ্রিক শারীরিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছিল। 

এ পরিস্থিতিতে রোগীর মুখের কার্যকারিতা ও সৌন্দর্য পুনর্বাসনের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত চিকিৎসা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রোগীর সব অকার্যকর দাঁত অপসারণ করে দুই চোয়ালে আধুনিক সাবপেরিওস্টিয়াল ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মাহমুদা আক্তারের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রখ্যাত ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জন অধ্যাপক ডা. শাহিদ আজিজ এই জটিল অস্ত্রোপচারে অংশগ্রহণ করেন। তাদের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের সমন্বয়ে সফলভাবে সার্জারিটি সম্পন্ন করা হয়।

অপারেশনটি লাইভ সার্জারি হিসেবে পরিচালিত হয়, যা চিকিৎসকদের জন্য শিক্ষণীয় ও পর্যবেক্ষণমূলক সুযোগ তৈরি করে। এসময় ডেন্টাল অনুষদের ডিন সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ এবং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাইফুল আজম রঞ্জুসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষক, মেডিকেল অফিসার ও রেসিডেন্ট চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।

এই আধুনিক ইমপ্ল্যান্ট পদ্ধতির মাধ্যমে রোগীর মুখের স্বাভাবিক গঠন ও সৌন্দর্য ফিরে পাবে এবং আবারও স্বাভাবিকভাবে খাবার চিবাতে সক্ষম হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন চিকিৎসকরা। ফলে তার পুষ্টি গ্রহণের সক্ষমতা বাড়বে এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের জটিল রোগীর ক্ষেত্রে সাবপেরিওস্টিয়াল ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট প্রয়োগ অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। সফলভাবে এ সার্জারি সম্পন্ন হওয়া বিএমইউর চিকিৎসা দক্ষতা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সাফল্য ভবিষ্যতে দেশে জটিল ডেন্টাল ও ম্যাক্সিলোফেসিয়াল চিকিৎসার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।