শিরোনাম

ঢাকা, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : থাইরয়েড ক্যান্সারের চিকিৎসায় যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। থাইরয়েড ক্যান্সার নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে রোগের প্রকৃতি ও আচরণ বুঝে চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)-তে আয়োজিত ইউনিভার্সিটি সেন্ট্রাল সেমিনারে আজ বিশেষজ্ঞরা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
বিএমইউ’র ব্লক অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘থাইরয়েড নোডুল এন্ড ক্যান্সার: আপডেট এন্ড বিয়ন্ড' শীর্ষক এই সেমিনারে জানানো হয়, বিশ্বব্যাপী গত তিন দশকে থাইরয়েড ক্যান্সারের প্রকোপ বাড়লেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে চিকিৎসার মাধ্যমে তা সম্পূর্ণ নিরাময় করা যায়। তবে খুব অল্প সংখ্যক রোগীর ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ফলাফল পাওয়া যায় না।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএমইউ’র অটোল্যারিংগোলজি হেড এন্ড নেক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ও হেড নেক সার্জারি ডিভিশনের প্রধান অধ্যাপক ডা. কে এম এম আব্দুস সাত্তার। তাঁর উপস্থাপিত ‘প্যারাডিজম শিফট ইন দ্যা সার্জিক্যাল ম্যানেজমেন্ট অফ থাইরয়েড ক্যান্সার' শীর্ষক প্রবন্ধে তিনি বলেন, গবেষণায় দেখা যাচ্ছে—অনেক থাইরয়েড ক্যান্সারে সম্পূর্ণ গ্রন্থি অপসারণের প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র আক্রান্ত অংশের অপারেশন (হেমিথাইরয়ডেক্টমি) করলেই রোগী দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন।
তিনি আরও জানান, কিছু থাইরয়েড ক্যান্সার দীর্ঘ সময় স্থিতাবস্থায় থাকে এবং তেমন কোনো ঝুঁকি তৈরি করে না। তাই রোগের ধরন ও আচরণ বুঝে চিকিৎসা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে রোগীর চিকিৎসাজনিত ঝুঁকি ও আর্থিক খরচ—দুটোই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। এমনকি জটিল বা খারাপ ধরনের থাইরয়েড ক্যান্সারের ক্ষেত্রেও বর্তমানে উন্নত ও কার্যকর নানা চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে। সুতরাং অযথা আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএমইউ’র প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ এবং প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার।
সেন্ট্রাল সেমিনার সাব কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আফজালুন নেসার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন সাব কমিটির মেম্বার সেক্রেটারি ডা. খালেদ মাহবুব মুর্শেদ মামুন।
প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার তাঁর বক্তব্যে থাইরয়েড ক্যান্সার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি এ খাতে গবেষণা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়া সেমিনারে নিনমাস-এর পরিচালক ও থাইরয়েড ডিভিশনের প্রধান অধ্যাপক ডা. একেএম ফজলুল বারী ‘দি থাইরয়েড মিস্ট্রি: ফাইন্ডিংস এন্ড ফিক্সিং নোডুলস' শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের বৈজ্ঞানিক সেমিনার থাইরয়েড ক্যান্সার নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা দূর করার পাশাপাশি রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।