বাসস
  ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩:০৪

ডিএনএ হ্যাক ফর হেলথ : অটিজম শনাক্তে সেরা নিউরোনার্চার

ছবি : সংগৃহীত

সিলেট, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও উদ্ভাবনী চিকিৎসা সমাধানে দেশব্যাপী ডিএনএ হ্যাক ফর হেলথ ২০২৬ এর সিলেট পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অটিজম চিকিৎসায় এআই-ভিত্তিক সমাধান এনে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নিউরোনার্চার নামের একটি টিম।

গতকাল শুক্রবার সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গনে এই ইভেন্ট আয়োজন করা হয়। হেলথ-টেক অঙ্গনে প্রথমবারের মতো এই হ্যাকাথনের আয়োজক ডিএনএ হেলথ কমিউনিকেশনস বাংলাদেশ।

প্রতিযোগিতায় রানার-আপ হয়েছে টিম স্টার; যারা প্রাথমিক পর্যায়ে রেডিওলজিস্টদের প্রশিক্ষণে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর) প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে এবং সেকেন্ড রানার-আপ হয়েছে মেডিলিঙ্ক; যারা জীবন রক্ষায় আইসিইউ বেড ও জরুরি ওষুধের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে একটি লাইভ লজিস্টিক অ্যাপ তৈরি করেছে। এই তিনটি দল ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য ন্যাশনাল গ্র্যান্ড ফাইনালে লড়বে।

অনুষ্ঠানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী বলেন, আমাদের মেডিকেল কলেজগুলোতে গবেষণা ও শিক্ষার ক্ষেত্রে কিছু অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবে বিএমডিসি এ বিষয়ে যুগোপযোগী পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমানে ডব্লিউডিওএমএস স্বীকৃতির প্রচেষ্টা চলছে, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে ইউএসএমএলই-এর মতো আন্তর্জাতিক সুযোগ এনে দেবে।

তিনি প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন, গবেষণা সহায়তা ও ডিজিটাল এথিক্সের ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করে বলেন, এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলার মাধ্যমেই টেকসই উদ্ভাবন সম্ভব। 

প্যানেল আলোচনায় বক্তারা একমত হন, ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যখাত রক্ষায় চিকিৎসা, প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত আন্তঃখাতভিত্তিক (ইন্টারসেকশনলাল) উদ্যোগই একমাত্র কার্যকর পথ।

ডিএনএ হেলথ কমিউনিকেশনস-এর প্রতিষ্ঠাতা এসএম নওশাদ বলেন, এই হ্যাকাথন মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য এমন এক সুযোগ তৈরি করেছে, যেখানে তারা প্রকৌশল ও ব্যবসায় শিক্ষার শিক্ষার্থীদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে পারছে।

তিনি দেশে চলমান সমস্ত স্বাস্থ্য গবেষণার তথ্য সংরক্ষণের জন্য একটি ‘সেন্ট্রাল ডেটা রিপোজিটরি’ বা কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার তৈরির জোরালো দাবি জানান। যাতে স্থানীয় মেধায় এই উদ্ভাবনগুলো হারিয়ে না যায় বরং জাতীয় শিল্পে পরিণত হয়।

ডিএনএ হেলথ কমিউনিকেশন জানিয়েছে, এই বছর দেশের প্রতিটি বিভাগীয় মেডিকেল কলেজে এই হ্যাকাথন অনুষ্ঠিত হবে। তবে আয়োজন শুধু প্রযুক্তিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; স্বাস্থ্য সচেতনতা ও মানসিক প্রশান্তির লক্ষ্যে বছরজুড়ে থাকবে ওয়াকথন, ম্যারাথন, আর্ট ও ফটোগ্রাফি এক্সিবিশন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বিশেষ স্ট্যান্ডআপ কমেডি শো। যার ফলে প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির এই মেলবন্ধনে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত দেখবে।