BSS-BNhrch_cat_news-24-5
বাসস
  ২১ মে ২০২২, ১৯:১৫

দেশের মূল্যস্ফীতির বড় কারণ বৈশ্বিক পরিস্থিতি

ঢাকা, ২১ মে, ২০২২ (বাসস): বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হওয়ায় দেশের অভ্যন্তরে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখ করে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেছেন, বর্তমানে দেশে যে মূল্যস্ফীতি হচ্ছে, তার অনেকাংশের উৎস হচ্ছে বিশ্ববাজার। বিশ্বব্যাপী জ্বালানী তেলের দাম বৃদ্ধি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং যুক্তরাজ্যে পণ্যমূল্য ৮ শতাংশ বেড়েছে। এর প্রভাব দেশের পণ্যবাজারে পড়ছে। তিনি মনে করেন, বর্হিবিশ্বের কারণে দেশের অভ্যন্তরে মূল্যস্ফীতি ঘটলে, সেটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ নয়। সেজন্য মুল্যস্ফীতির চাপ থেকে নিন্ম আয়ের মানুষকে সুরক্ষায় তাদেরকে সরকারের সহযোগিতা দেওয়ার সুপারিশ করেন তিনি।
শনিবার রাজধানীর তেজগাঁও ইংরেজি দৈনিক দ্য বিজনেস পোস্ট আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্চ এবং আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট’ বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পত্রিকাটির সম্পাদক মোহাম্মদ গোলাম সারওয়ারের সভাপতিত্বে এতে জাতীয় সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আব্দুল মজিদ, রপ্তানিমূখী নীট পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ও র‌্যাপিড’র নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. এম আবু ইউসুফ,  শিল্পোদ্যোক্তা ক্রিয়েশন প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশিদুল করিম মুন্না, বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. সায়েদুর রহমান, ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি রিচার্ড ডি’ রোজারিও, ডিসিসিআইয়ের পরিচালক খায়রুল মজিদ মাহমুদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
দ্য বিজনেস পোস্টের নির্বাহী সম্পাদক নাজমুল আহসান সেমিনার সঞ্চালনা করেন।
বিশ্বব্যাপী দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম আগামী বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণের সুপারিশ করেন। তিনি আরও বলেন, আমাদের বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের অবসরকালিন সুবিধা সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত থাকে। 
তিনি বলেন, বাজেটে কত টাকা বরাদ্দ আছে, তার চেয়ে বড় বিষয় যে টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে, সেটা খরচ হচ্ছে কি না। তিনি বলেন, আমরা বাজেট ব্যয়ের দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে পিছিয়ে আছি। পাশাপাশি রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রেও আমরা পিছিয়ে। তিনি এসব জায়গায় সরকারকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন। 
অনুষ্ঠানে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আব্দুল মজিদ বলেন, কোভিড পরিস্থিতি থেকে পুনরুদ্ধারের জন্য তিন বছর মেয়াদি একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা যেতে পারে। যার আলোকে বাজেট প্রণয়ন বা কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার আগ পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলতে থাকবে।
ড. এম আবু ইউসুফ বলেন, কোভিডের কারণে শিক্ষাখাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী এসময় ঝরে পড়েছে। তাদেরকে আবার কিভাবে পড়ালেখায় ফিরিয়ে আনা যায়, আগামী বাজেটে সেই উদ্যোগ থাকাটা জরুরি। তিনি শিক্ষাখাতের জন্য আলাদা স্বতন্ত্র বাজেট প্রণয়নের সুপারিশ করেন।
অনুষ্ঠানে বিকেএমইর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান এইচএস কোড জটিলতা নিরসনের দাবি জানান।
 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন