বাসস
  ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:০০

টেকসই উন্নয়নে পারস্পরিক শেখার ওপর গুরুত্বারোপ কোইকা কর্মশালায়

ঢাকা, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (কোইকা) বাংলাদেশ অফিস আয়োজিত ‘কোইকা-এনজিও পার্টনারশিপ এনহ্যান্সমেন্ট ওয়ার্কশপ ২০২৬’-এ পারস্পরিক শেখা, জ্ঞান বিনিময় এবং কমিউনিটি-নেতৃত্বাধীন টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

আজ রাজধানীতে আয়োজিত এ কর্মশালায় কোইকার অংশীদার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। কর্মশালায় এডিআরএ, গ্লোবাল কেয়ার, হার্ট টু হার্ট ফাউন্ডেশন, অক্সফাম, সেভ দ্য চিলড্রেন, কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড এবং কোইকার স্থানীয় অংশীদার জাগ্রত যুব সংঘ (জেজেএস)-এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অতিথি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্র্যাকও এতে অংশ নেয়।

কর্মশালার উদ্দেশ্য ছিল অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়, পারস্পরিক শেখার সুযোগ তৈরি এবং স্থানীয়ভাবে পরিচালিত উদ্যোগের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রমের টেকসইতা নিশ্চিত করা।

কোইকা জানায়, এ কর্মশালার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পরিচালিত একটি পারস্পরিক শেখার প্রক্রিয়ার সমাপ্তি হয়েছে। এ প্রক্রিয়ার আওতায় প্রতিষ্ঠানগুলো একে অপরের প্রকল্প ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিদর্শন করে।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন থেকে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা, নিজেদের অভিজ্ঞতা এবং কার্যকর পদ্ধতিগুলো তুলে ধরেন। আলোচনায় বিভিন্ন কমিউনিটি-ভিত্তিক উন্নয়ন পদ্ধতি থেকে শেখার সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং এসব অভিজ্ঞতা কীভাবে আরও কার্যকর, জনবান্ধব ও 

টেকসই উন্নয়ন উদ্যোগে প্রয়োগ করা যায় তা নিয়ে আলোচনা হয়।

একজন অংশগ্রহণকারী বলেন, পারস্পরিক শেখার এ অভিজ্ঞতা কমিউনিটি-নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন পদ্ধতি সম্পর্কে তাদের ধারণাকে আরও বিস্তৃত করেছে এবং সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন আরও ভালোভাবে পূরণে নতুন চিন্তার সুযোগ তৈরি করেছে।

কোইকা জানিয়েছে, বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আর্থ-সামাজিক পরিবেশ উন্নয়নে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থানীয় চাহিদাভিত্তিক উন্নয়ন পদ্ধতি সহায়তার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জলবায়ু সহনশীলতা, জীবিকা উন্নয়ন এবং সামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলো এ উদ্যোগে অংশগ্রহণ করে।

কর্মশালায় বক্তব্যে কোইকা বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম বলেন, বাংলাদেশে আরও কার্যকর, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন অর্জনে কোইকা সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন অংশীজনের সক্ষমতাকে একত্রিত করতে চায়।

তিনি প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সফল উদ্যোগগুলো অব্যাহত রাখতে কমিউনিটির মালিকানা বৃদ্ধি, স্থানীয় সক্ষমতা উন্নয়ন এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে শক্তিশালী যোগাযোগ তৈরির গুরুত্ব তুলে ধরেন।

কোইকা বাংলাদেশ-এর ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর হিউনউ ইয়াং বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতায় কোইকার পরিবর্তনশীল অগ্রাধিকার ও কৌশলগত দিক তুলে ধরেন। তিনি ভবিষ্যতের সহযোগিতা ক্ষেত্র এবং নতুন প্রকল্প উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা করেন।

কোইকা বাংলাদেশ-এর ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর সুজিন কংও আলোচনায় অংশ নেন এবং অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ে অবদান রাখেন।

কর্মশালার শেষে কোইকা ও সুশীল সমাজের প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে টেকসই ও কমিউনিটি-নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন শক্তিশালী করতে পারস্পরিক শেখা, জ্ঞান বিনিময় এবং সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।