বাসস
  ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:১৭

আগামীতে চট্টগ্রামই হয়ে উঠবে দেশের বাণিজ্যিক হাব : অর্থমন্ত্রী

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান সরকার তার সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা ও কর্মকাণ্ডে চট্টগ্রামকে সর্বাগ্রে প্রাধান্য দিচ্ছে। চট্টগ্রামকেন্দ্রিক উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক দৃশ্যপট আমূল বদলে যাবে এবং অচিরেই চট্টগ্রাম হয়ে উঠবে দেশের মূল বাণিজ্যিক হাব।

আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ২৪তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “সমগ্র বিশ্ব এখন দ্রুত পরিবর্তনশীল আধুনিক প্রযুক্তির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই বৈশ্বিক পরিবর্তনের সাথে আমাদেরও খাপ খাইয়ে নিতে হবে; অন্যথায় আমরা বিশ্বমঞ্চে পিছিয়ে পড়ব। সে লক্ষ্যে আমাদের শিক্ষার্থীদের সময়োপযোগী ও আধুনিক শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীদের অসামান্য মেধা রয়েছে এবং দেশে অনেক উচ্চমানের গবেষকও আছেন। তাই সরকার এবার গবেষণায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করেছে। এখন আমাদের নতুন নতুন উদ্ভাবনের দিকে অধিক মনোযোগী হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্ভাবনী কাজ অত্যন্ত পছন্দ করেন এবং বর্তমান সরকার এ খাতে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আমাদের লুকিয়ে থাকা উদ্ভাবনী শক্তিকে খুঁজে বের করতে হবে। চট্টগ্রাম বাংলাদেশের লজিস্টিকস হাব হিসেবে গড়ে উঠবে এবং এ প্রক্রিয়ায় চুয়েট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।”

চুয়েট কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি টেকনোলজি পেট্রোনাসের পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান আইআর. ড. মোহাম্মদ আজুয়ান বিন মাওনসার। সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী, এমপি বলেন, “চুয়েট হলো দেশের মেধার এক উজ্জ্বল বাতিঘর। আমরা যদি এই প্রতিষ্ঠানের সম্ভাবনাকে সঠিক মূল্যায়ন ও পরিচর্যা করি, তবে এর সুফল পুরো দেশ পাবে।”

ড. মোহাম্মদ আজুয়ান বিন মাওনসার বলেন, “চুয়েটের শিক্ষাবিষয়ক অগ্রযাত্রা প্রশংসনীয়। মালয়েশিয়ার বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে চুয়েটের যৌথ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে পারে, যা শিক্ষা ও গবেষণাকে আরও দূর এগিয়ে নেবে।”

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম বলেন, “আমাদের লক্ষ্য চুয়েটের র‌্যাংকিং উন্নত করে অন্তত এশীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এবং বিশ্বমানের গবেষণা পরিবেশ নিশ্চিত করা। আনন্দের বিষয় হলো, আমাদের সব ইতিবাচক উদ্যোগে বর্তমান সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবার সার্বিক সহযোগিতা পাচ্ছি।”

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সারওয়ার আলমগীর, তড়িৎ ও কম্পিউটার প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেন, পুর ও পরিবেশ কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সুদীপ কুমার পাল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু কাউছার, মেকানিক্যাল অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশিদুল হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে চুয়েটের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং চুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা ক্বারী নুরুল্লাহ কুরআন তিলাওয়াত করেন।

এর আগে সকালে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে দিবসের সূচনা হয়। বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

উদ্বোধন শেষে ‘আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন ফাউন্ডেশন’ কর্তৃক উপহারপ্রাপ্ত ৬টি নতুন বাসের শুভ উদ্বোধন করা হয়। পরবর্তীতে চুয়েটের গোলচত্বরে চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃক প্রদত্ত সুপেয় পানি সংযোগ লাইনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধান অতিথি এবং সেখানে একটি স্মারক বৃক্ষরোপণ করেন। এরপর তিনি চুয়েটের ‘ক্লাব ফেস্ট’-এর বিভিন্ন স্টল এবং শিক্ষার্থীদের তৈরি ‘টিম ব্লিৎজার’-এর গো-কার্ট পরিদর্শন করেন।

আলোচনা সভা শেষে ২৪তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা (র‌্যালি) বের করা হয়। র‌্যালিতে রং-বেরঙের প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুনসহ অতিথিবৃন্দ, চুয়েটের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।