বাসস
  ১৪ জুন ২০২৬, ১৫:১০

বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে হিমশিম খাচ্ছে ইন্দোনেশিয়া

ঢাকা, ১৪ জুন, ২০২৬ (বাসস) : উচ্চ জ্বালানি মূল্য ও নীতিগত অনিশ্চয়তার চাপের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতি কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দিলেও, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে দেশটি এখনও হিমশিম খাচ্ছে।

উচ্চ জ্বালানি মূল্যের কারণে ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতি এক কঠিন সংকটময় পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। যদিও দেশটির মুদ্রার মান সামান্য পুনরুদ্ধার হয়েছে।

তবে সমালোচকরা সতর্ক করে বলছেন, সরকারের নীতিমালা বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় অর্থনীতি হিসেবে পরিচিত ইন্দোনেশিয়া, যা তেল আমদানিনির্ভর দেশ। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নাগরিকদের স্বস্তি দিতে সরকার জ্বালানি ভর্তুকি অব্যাহত রেখেছে এবং কয়েক বিলিয়ন ডলারের স্কুল খাবার কর্মসূচিও চালু রেখেছে। সমালোচকরা এটিকে অপচয় বলে আখ্যা দিচ্ছেন।

এদিকে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা থাকা সত্ত্বেও সরকার রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কঠোর করায়, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এসব পদক্ষেপকে অনেকেই ‘সম্পদ জাতীয়তাবাদ’ হিসেবে সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে পার্লামেন্টের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও কমিয়ে দিয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার শেয়ারবাজারও বড় ধসের মুখে পড়েছে—বছরের শুরু থেকে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মূল্য হারিয়েছে, যা বৈশ্বিকভাবে অন্যতম খারাপ পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে অনেক ট্রেডার বা বিনিয়োগকারী ইন্দোনেশিয়া থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করছেন।

তবে চলতি সপ্তাহে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। কারণ কেন্দ্রীয় ব্যাংক টানা দুই দফা নীতি সুদের হার বাড়িয়ে মোট ৭৫ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি করার পর মুদ্রা ও শেয়ারবাজার ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

ফিচ সলিউশনের একটি ইউনিট বিএমআই-এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক নীতিগত পদক্ষেপের কারণে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ এখনো অব্যাহত থাকবে।

বিএমআই বলেছে, ‘যেহেতু অভ্যন্তরীণ নীতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের সমাধান হয়নি, তাই রুপিয়াহর ওপর অবমূল্যায়নের চাপ অব্যাহত থাকবে বলে মনে হচ্ছে।’

বিএমআই আরও বলছে, এর ফলে ব্যাংক ইন্দোনেশিয়া ‘সুদের হার আরও বাড়াতে বাধ্য হবে।’