শিরোনাম

যশোর, ৪ মে, ২০২৬ (বাসস): বেনাপোল স্থলবন্দরে পণ্য আমদানি থেকে শুরু করে খালাস পর্যন্ত প্রতিটি প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
আজ সোমবার সকালে বেনাপোল চেকপোস্টের আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় আমদানির প্রতিটি ধাপ বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রজেক্টরের মাধ্যমে দেখানো হয় যে, একটি পণ্যচালান বাংলাদেশে প্রবেশের প্রক্রিয়া শুরু হয় এলসি (ঋণপত্র) খোলার মাধ্যমে। আমদানিকারক ব্যাংকে প্রোফরমা ইনভয়েস জমা দিয়ে এলসি খোলেন, যেখানে পণ্যের বিস্তারিত বিবরণ থাকে। এরপর রপ্তানিকারক-দেশ থেকে আইজিএম (ইমপোর্ট জেনারেল মেনিফেস্ট) প্রক্রিয়ায় পণ্যের তথ্য পাঠানো হয়। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা এসব নথি অনলাইনে এন্ট্রি করার পর কাস্টমস অনুমোদন দিলে পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশের অনুমতি পায়।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ট্রাকগুলো বন্দরে প্রবেশের পর পর্যায়ক্রমে বিজিবি, কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিবন্ধিত হয় এবং ওজন স্কেলে ওজন করার পর কার্গো ভেহিক্যাল টার্মিনালে রাখা হয়। এরপর নির্ধারিত শেড বা ইয়ার্ডে পণ্য খালাস করা হয়। পরবর্তী ধাপে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্য পরীক্ষণ ও শুল্কায়ন সম্পন্ন করে।
আমদানিকারক প্রয়োজনীয় শুল্ক পরিশোধ করলে কাস্টমস থেকে রিলিজ অর্ডার ইস্যু করা হয়। সবশেষে বন্দর কর্তৃপক্ষের মাশুল পরিশোধ ও গেটপাস সংগ্রহের মাধ্যমে পণ্য বাংলাদেশি ট্রাকে লোড করে নির্ধারিত গেট দিয়ে বন্দর ত্যাগ করে।
সংবাদ সম্মেলনে বেনাপোল স্থলবন্দরের রাজস্ব আদায়ের চিত্র তুলে ধরে জানানো হয়, গত পাঁচ বছরে বেনাপোল বন্দরে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে যেখানে রাজস্ব ছিল ৪ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ২৯ কোটি টাকায়। সর্বশেষ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) ও উপ-সচিব মোহাম্মদ শামীম হোসেন বলেন, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে সবার মধ্যে স্বচ্ছ ধারণা তৈরি করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। এতে কার্যক্রম গতিশীল হবে এবং রাজস্ব আহরণ আরও বাড়বে। তিনি বন্দরকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন।