শিরোনাম

চট্টগ্রাম, ৩ মে, ২০২৬ (বাসস): চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত সিঙ্গাপুর থেকে আসা আমদানি পণ্যবাহী দুটি কনটেইনার জাহাজকে বিশেষ নিরাপত্তায় জেটিতে আনা হয়েছে।
রোববার বিকেলে বন্দর চ্যানেল হয়ে জেসিবি জেটিতে নোঙর করে ‘মায়েরস্ক চট্টগ্রাম’ ও ‘এইচআর তুরাগ’ জাহাজ দুটি।
এর আগে সকাল ১১টা থেকে বন্দরের মোহনা থেকে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পর্যন্ত নৌপথে জোরদার করা হয় বিশেষ নিরাপত্তা। প্রতিটি জাহাজকে তিনটি করে টাগবোট দিয়ে পাহারা দেওয়া হয় এবং অতিরিক্ত টাগবোট স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়।
এ সময় বন্দরের নির্ধারিত অন্যান্য জাহাজের বার্থিং আগেভাগে শেষ করা হয় এবং সাময়িকভাবে সাধারণ জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়। বন্দর ভবনের ভ্যাসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ভিটিএমএস) থেকে পুরো কার্যক্রম তদারকি করেন নৌ বিভাগের কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, ডেনমার্কভিত্তিক শিপিং কোম্পানির জাহাজ ‘মায়েরস্ক চট্টগ্রাম’ এবং দেশীয় ‘এইচআর তুরাগ’ সিঙ্গাপুর থেকে প্রায় ২ হাজার ৮০০ কনটেইনার আমদানি পণ্য নিয়ে শুক্রবার (১ মে) বন্দরে আসার পথে বহির্নোঙরে পরস্পরের সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর জাহাজ দুটি সেখানে আটকা পড়ে।
দুর্ঘটনার পর জাহাজ দুটি জেটিতে আনার জন্য বন্দরের পাইলটরা চেষ্টা করলেও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বেশি হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে আনা সম্ভব হয়নি। দুইদিন পর বিশেষ ব্যবস্থায় জাহাজ দুটি জেটিতে আনা হলো।
চট্টগ্রাম বন্দরের উপ-সংরক্ষক ক্যাপ্টেন জহিরুল ইসলাম বলেন, দুটি জাহাজে বিপুল পরিমাণ আমদানি পণ্য আটকা ছিল। দীর্ঘ সময় বহির্নোঙরে থাকায় আমদানিকারকদের উদ্বেগ বাড়ছিল। তাই অর্থনৈতিক বিষয় বিবেচনায় বিশেষ ব্যবস্থায় জাহাজ দুটি জেটিতে আনা হয়েছে।
জাহাজ পরিচালনাকারীরা জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে ধীরগতিতে (৬ থেকে ১০ নটিক্যাল মাইল) এবং প্রতি জাহাজে দুজন করে পাইলট নিয়ে এগুলো জেটিতে আনা হয়।
জানা গেছে, ‘মায়েরস্ক চট্টগ্রাম’ জাহাজে ১ হাজার ৮৭৮টি এবং ‘এইচআর তুরাগ’-এ প্রায় এক হাজার কনটেইনার রয়েছে। জাহাজ দুটি আমদানি পণ্য খালাস করলেও আপাতত রপ্তানি কনটেইনার বহন করবে না।
এদিকে, ঘটনার তদন্তে নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তর ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, জাহাজ দুটি ডকইয়ার্ডে নিয়ে মেরামত করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং সমুদ্রপথে চলাচলের অনুমতি পাওয়ার পরই জাহাজগুলো পুনরায় স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরবে।