বাসস
  ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ২১:৪১

বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এলটিএফএফ নীতিমালা সংশোধন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

ঢাকা, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখা এবং অংশগ্রহণকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠান (পিএফআই) ও তাদের গ্রাহকদের কাছে কর্মসূচিটিকে আরও আকর্ষণীয় করতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন সুবিধা (বিবি-এলটিএফএফ)-এর পরিচালনা নির্দেশিকায় গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি)।

আজ বৃহস্পতিবার জারি করা বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সার্কুলারে বলা হয়, সংশোধিত নির্দেশিকা আগামীকাল থেকে কার্যকর হবে এবং বিদ্যমান ও ভবিষ্যৎ উভয় ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

সংশোধিত কাঠামোর আওতায় অংশগ্রহণকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ১ শতাংশ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত নির্দেশক মূল্যহার নির্ধারণ করেছে।

প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্যামেলস রেটিং ও অর্থায়নের মেয়াদের ভিত্তিতে প্রযোজ্য হার নির্ধারিত হবে।

ক্যামেলস রেটিং ‘১’ পাওয়া ব্যাংকগুলো পাঁচ বছর মেয়াদি অর্থায়নের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ হারে সুবিধা পাবে, যা ১০ বছর মেয়াদে বেড়ে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ হবে।

রেটিং ‘২’ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে এ হার ১ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে ১ দশমিক ৭৫ শতাংশের মধ্যে থাকবে। আর রেটিং ‘৩’ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ঋণের মেয়াদভেদে হার হবে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বাজার পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যতে এসব হার সমন্বয় করা হতে পারে।

সংশোধিত নির্দেশিকায় ঋণগ্রহীতাদের জন্য অংশগ্রহণকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে ঋণের সুদহার নির্ধারণ করবে, সেটিও স্পষ্ট করা হয়েছে। ব্যাংকগুলোকে তাদের তহবিল ব্যয় ও পরিচালন ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে যৌক্তিক ঝুঁকি-সমন্বিত মার্জিন নির্ধারণ করতে হবে। তবে চূড়ান্ত স্প্রেড ও মুনাফার হার তহবিল ব্যয়ের ওপর অতিরিক্ত ২ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।

আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে অধিকতর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে ঋণসীমাও হালনাগাদ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

একক কোনো অংশগ্রহণকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একজন ঋণগ্রহীতা সর্বোচ্চ ১ কোটি ডলার পর্যন্ত সুবিধা নিতে পারবেন। আর একাধিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে সিন্ডিকেটেড অর্থায়নের ক্ষেত্রে সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ কোটি ডলার। এ সীমা এ সুবিধার আওতায় ক্রয়সংক্রান্ত ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে জারি করা মূল সার্কুলারের অন্যান্য সব বিধান অপরিবর্তিত থাকবে এবং পূর্ণ কার্যকর থাকবে।