শিরোনাম

ঢাকা, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেছেন, এসএমইর (ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প) জন্য একটা ডিজিটাল প্লাটফর্ম তৈরি করা হবে। সেখানে তারা শুধু তথ্যগুলো দিবে। বাকি সব (ব্যবসার সকল হিসাব) স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়ে যাবে। মঙ্গলবার রাজধানীর এনবিআর কার্যালয়ে প্রাক-বজেট আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, এসএমইর জন্য যে কর অব্যাহতি আছে, সেটা দেওয়ার সময় তাদের শনাক্ত করা যায় না। আপনাদের (এসএমই ফাউন্ডেশন) কাছে যদি এই ডাটাবেজ থাকে তাহলে আমাদের সাথে শেয়ার করবেন। না থাকলে তৈরি করবেন।
মো. আবদুর রহমান খান বলেন, কর এবং মূল্য বৃদ্ধি করলে সিগারেটের ব্যবহার কমে। এটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে প্রমাণিত। কাজেই আগামীতেও কর ও মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
অনুষ্ঠানে এসএমই ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এসএমইরা সাধারণত টালি খাতায় তাদের হিসাব রাখে। যে কারণে এসএমইদের জন্য উপজেলা পর্যায়ে একটা অবকাঠামো তৈরি করা দরকার। আমার মনে হয়, প্রফেশনাল যারা আছে তাদের সহযোগিতায় উপজেলা পর্যায়ে একটা অফিস স্থাপন করা গেলে সেখান থেকে মাসের সমস্ত হিসাব করতে পারে।
বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাসুদ আলম বলেন, ক্রস-বর্ডার ট্রানজেকশনে ট্যাক্স আদায় করা উচিত। ডিজিটাল ট্যাক্সের ভিত্তিটাকে আরও বাড়ানো যায়। ফেসবুক, মেটা, গুগল তাদের প্রচুর প্রোডাক্ট এখন বাংলাদেশ থেকে প্রতিনিয়ত কিনছে। আমি ছোট্ট একটি উদাহরণ দিচ্ছি, চ্যাটজিপিটির ‘গো’ সিস্টেম যেটা মাত্র ৫.৭৫ ডলার। এখানে ০.৭৫ ডলার আমি কিন্তু ট্যাক্স দিচ্ছি অন্য দেশকে, আমার দেশকে না। অথচ সার্ভিস কিনছি বাংলাদেশে বসে। আপনি এক্সপ্লোর করেন বাংলাদেশে কী পরিমাণ চ্যাটজিপিটির এই প্রিমিয়াম সার্ভিসটুকু নিচ্ছে। হয়তোবা মিডিয়াম রেঞ্জের ক্রেতারা ২০ ডলারের সার্ভিস নিচ্ছে। গুগলকে বলতে হবে ট্যাক্স দাও। শুরু করুন। একদম ক্ষুদ্র আকারে সেটুকু শুরু করা যেতে পারে এই ক্রস-বর্ডার ট্রানজেকশনের ক্ষেত্রে। আর ফেসবুকের ক্ষেত্রে যত ধরনের লেনদেন হচ্ছে বিশেষ করে স্ট্রিমিং সার্ভিসগুলো, অন্যান্য ডিজিটাল সেবাগুলোর ক্ষেত্রে, সেই অর্থে বর্তমানে কোনো কর নেই।
আলোচনায় বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি (বিইএ), অর্থনৈতিক গবেষণা গ্রুপ (ইআরসি), বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড), এন্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স(আত্মা), সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি), পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই),ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।