শিরোনাম

ঢাকা, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস): দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পকে বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ব্যাপক নীতিগত সহায়তা প্রদানের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।
আজ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কার্যালয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের সঙ্গে বৈঠকে এ প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। এ সময় তিনি বলেন, বৈশ্বিক চাহিদা হ্রাস, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং কারখানাগুলোর আর্থিক চাপ বেড়ে যাওয়ায় দেশের রপ্তানি নির্ভর তৈরি পোশাক খাত বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৩ শতাংশই আসে এই খাত থেকে। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে পোশাক রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ৩.৭৩ শতাংশ কমেছে।
বিজিএমইএ সভাপতি আরও বলেন, ব্যাংক সুদের হার ১২ থেকে ১৫ শতাংশে উন্নীত হওয়ায় উদ্যোক্তারা বড় ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছেন। পাশাপাশি ২০১৭ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে গ্যাসের দাম ২৮৬ শতাংশ এবং গত পাঁচ বছরে বিদ্যুতের দাম ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালে ন্যূনতম মজুরি ৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি এবং বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ৫ শতাংশ থেকে ৯ শতাংশে উন্নীত হওয়ায় ব্যয় আরও বেড়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, গত তিন বছরে প্রায় ৪০০টি পোশাক কারখানা আর্থিক সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে। সংকট মোকাবিলায় বিজিএমইএ সভাপতি রপ্তানির উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৬৫ শতাংশে নামিয়ে আনার এবং আগামী পাঁচ বছর এই হার স্থিতিশীল রাখার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি রপ্তানি খাতে নগদ সহায়তা ও প্রণোদনার ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ আয়কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও প্রস্তাব করেন, তৈরি পোশাক খাতে সব ধরনের আয়Ñযেমন সম্পদ বিক্রি ও সাবকন্ট্রাক্টিং আয়Ñএর জন্য অভিন্ন ১২ শতাংশ করপোরেট করহার নির্ধারণ করা হলে কর জটিলতা কমবে।
কাস্টমস ও ভ্যাট ব্যবস্থায় সরলীকরণ, সাবকন্ট্রাক্টিংয়ে দ্বৈত কর বাতিল এবং বন্ডেড ওয়্যারহাউস বিধিমালা সহজ করার বিষয়েও তিনি জোর দেন।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশনে থাকা কাঁচামাল আমদানিতে বারবার অনুমোদনের পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।
পরিবেশগত টেকসই ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি জানান, বাংলাদেশ বর্তমানে ২৭৫টি ইউএসজিবিসি লিড সার্টিফায়েড সবুজ কারখানা নিয়ে বিশ্বে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে, যার মধ্যে ৭০টি বিশ্বের শীর্ষ ১০০ সবুজ কারখানার তালিকায় রয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহ দিতে সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জামের ওপর মোট করভার ১ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাবও দেন তিনি। এছাড়া তিনি ইটিপি ও ডব্লিউটিপিতে ব্যবহৃত রাসায়নিকের আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদানের আহ্বান জানান।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার মতো প্রতিযোগী দেশের তুলনায় বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে এসব নীতিগত সহায়তা জরুরি। এতে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারের রাজস্বও দীর্ঘমেয়াদে বাড়বে বলে তিনি মত দেন।
তিনি আরও বলেন, তৈরি পোশাক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা বৈদেশিক মুদ্রা আয়, কর্মসংস্থান রক্ষা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।