বাসস
  ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:২৭

এমসিসিআই’র প্রাক-বাজেট প্রস্তাবনা : সহায়ক করনীতি ও কর আওতা সম্প্রসারণে জোর

ঢাকা, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : আসন্ন ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিনিয়োগবান্ধব করনীতি, কর আওতা সম্প্রসারণ, ডিজিটাল করব্যবস্থা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক নীতি প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)।
 
আজ রাজধানীর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি. রহমান এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, নিম্ন জিডিপি প্রবৃদ্ধি, উচ্চ সুদহার এবং ডলার সংকটের কারণে দেশীয় শিল্প খাত কঠিন সময় পার করছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ অবস্থায় আগামী বাজেটে ব্যবসা ও বিনিয়োগ সহায়ক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

কর আওতা সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে এমসিসিআই সভাপতি বলেন, বর্তমানে ১ কোটির বেশি ই-টিআইএনধারী থাকলেও নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করেন অর্ধেকেরও কম করদাতা। দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ অর্থনীতি অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতনির্ভর হওয়ায় এ বিশাল জনগোষ্ঠীকে কর ব্যবস্থার আওতায় আনা জরুরি।

এ লক্ষ্যে তিনি বছরে ১০০ বা ১ হাজার টাকার প্রতীকী ন্যূনতম কর চালু এবং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ‘ওয়ান-পেজ ডিজিটাল রিটার্ন’ দাখিল ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেন। এতে করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি কর ফাঁকি কমবে বলেও তিনি মত দেন।

ডিজিটাল করব্যবস্থার অংশ হিসেবে আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমসের জন্য পৃথক প্ল্যাটফর্মের পরিবর্তে সমন্বিত ‘ইউনিফাইড ট্যাক্সপেয়ার প্রোফাইল’ চালুর প্রস্তাব দেয় সংগঠনটি। একই সঙ্গে ভ্যাট কাঠামো সহজীকরণ, ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট স্বয়ংক্রিয়করণ এবং আপিল ও ট্রাইব্যুনালে অনলাইন শুনানি চালুর সুপারিশ করা হয়। 
পিএসআর ব্যবস্থার সহজীকরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে ৩৯টি ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক পিএসআর ব্যবসা পরিচালনায় জটিলতা সৃষ্টি করছে এবং ব্যবসা সহজীকরণ ব্যাহত করছে। তাই এ ব্যবস্থাকে সরল, যৌক্তিক ও ডিজিটালভাবে যাচাইযোগ্য করার আহ্বান জানান তিনি।

এসএমই খাতের জন্য পৃথক ও সহায়ক কর কাঠামো, টার্নওভার কর হ্রাস, ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট সুবিধা এবং কাঁচামালের ওপর ভ্যাট ও শুল্ক যৌক্তিকভাবে কমানোর প্রস্তাবও দেয় সংগঠনটি।

মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সঙ্গে আজকের এই প্রাক-বাজেট আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান।

তিনি বলেন, আয়কর রিটার্ন দাখিল ব্যবস্থা এখন পুরোপুরি অনলাইনে নেওয়া হয়েছে এবং এটি সাধারণ করদাতাদের জন্য সহজ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৪৪ লাখ ই-রিটার্ন জমা পড়েছে, যেখানে কাগজে রিটার্নের সংখ্যা ৩ লাখেরও কম। এতে বোঝা যায় অনলাইন রিটার্ন ব্যবস্থা জনপ্রিয় হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ই-রিটার্ন ব্যবস্থায় কর হিসাব, রেয়াত ও করযোগ্য আয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হয়। ফলে, ভুল হিসাবের ঝুঁকি কমে গেছে এবং করদাতাদের হয়রানিও কমবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, উৎসে কর কর্তন (ই-টিডিএস) ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা হলে বিভিন্ন উৎস থেকে অর্জিত আয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে করদাতার রিটার্নে যুক্ত হবে। এতে করদাতাদের জন্য প্রক্রিয়া আরো সহজ হবে।

তিনি বলেন, এনবিআর-এর লক্ষ্য হলো করদাতারা নিজ নিজ অফিস বা বাসা থেকে অনলাইনে রিটার্ন জমা দেবেন, কর পরিশোধ করবেন এবং অপ্রয়োজনে কর অফিসে যেতে হবে না। একইভাবে কর কর্মকর্তারাও কারণ ছাড়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যাবেন না।

এনবিআর চেয়ারম্যান আরো বলেন, কর সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যবসাবান্ধব, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হয় এবং করের আওতা বাড়ে।