বাসস
  ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:৩৫
আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:৪১

আমদানিতে গতি আনতে ছুটির দিনেও বিএসটিআই সেবা চালুর নির্দেশ

শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান আজ তেজগাঁওয়ে বিএসটিআই প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক স্টেকহোল্ডার গণশুনানিতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। ছবি : মন্ত্রণালয়

ঢাকা, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : আমদানি পণ্যের দ্রুত খালাস নিশ্চিত করা এবং বন্দরে অপ্রয়োজনীয় ডেমারেজ খরচ কমাতে সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর সেবা চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছেন শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান। 

আজ তেজগাঁওয়ে বিএসটিআই প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক স্টেকহোল্ডার গণশুনানিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে আমদানিকৃত পণ্যের ছাড়পত্র প্রক্রিয়া আরো দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে বন্দরে পণ্য আটকে থাকার সময় কমবে এবং ডেমারেজ বাবদ অতিরিক্ত ব্যয় থেকেও আমদানিকারকরা রক্ষা পাবেন।

শিল্প সচিব আরো নির্দেশ দেন, সিটিজেন চার্টারে নির্ধারিত সময়সীমার চেয়েও দ্রুত পণ্যের ছাড়পত্র প্রদানের ব্যবস্থা নিতে। তিনি বলেন, সরকার সরাসরি ব্যবসা পরিচালনা করে না; বরং ব্যবসার জন্য সহায়ক নীতি ও পরিবেশ নিশ্চিত করে। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে ব্যবসায়ীদের সমস্যার সমাধানে সরকার সর্বদা পাশে থাকবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।

বিএসটিআই-এর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এম এ কামাল বিল্লাহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ গণশুনানিতে বিভিন্ন শীর্ষ শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিল প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, স্কয়ার টয়লেট্রিজ, সিটি গ্রুপ, ওয়ালটন, এসিআই, পোলার আইসক্রিম, অলিম্পিক বেকারি অ্যান্ড কনফেকশনারি লিমিটেড, অলিম্পিয়া বেকারি, ট্রাস্ট ইনফিনিটি ফার্মস এবং পিয়ারলেস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

গণশুনানিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় এবং কয়েকটি তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর মধ্যে রয়েছেÑ নকল পণ্য উৎপাদনকারী অবৈধ প্রতিষ্ঠানের উৎস শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, পণ্যের মান নির্ধারণে এসআরও প্রকাশের সময় কমানো, খাদ্যপণ্যে ব্যবহৃত রং প্রয়োজনে বিএসটিআই ল্যাবে পরীক্ষা করা, সুগার ও নন-সুগার রুটি-পাউরুটির মান একীভূত করা এবং লাইভ বেকারিগুলোর ওপর নজরদারি জোরদার করা।

বিএসটিআই মহাপরিচালক বলেন, ব্যবসায়ীরাই দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি এবং তারা প্রতিষ্ঠানের সেবাগ্রহীতা। সেবায় কোনো ঘাটতি থাকলে বিএসটিআই-কে জবাবদিহি করতে হবে। 

তিনি আরো জানান, এসআরও প্রকাশ প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করা এবং পণ্যের মান নির্ধারণ ব্যবস্থা উন্নত করতে কাজ চলছে। আলোচিত বিষয়গুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।