শিরোনাম

ঢাকা, ১০ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমাতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। সংস্থাটির প্রধান বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়ে বলেন, দুই সপ্তাহের নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সংঘাতের ‘দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতচিহ্ন’ থেকে যাবে।
ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, ‘সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতিতেও আগের অবস্থায় পুরোপুরি ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে না।’
তিনি জানান, তহবিলের ‘সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক পরিস্থিতিতেও’ জ্বালানির বাড়তি দাম, অবকাঠামো ক্ষতি, সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন এবং বাজারে আস্থার ঘাটতির কারণে প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে কম হবে।
আইএমএফ ধারণা করছে, যুদ্ধের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে ২০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২ হাজার থেকে ৫ হাজার কোটি ডলার) পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দিতে হতে পারে। যুদ্ধবিরতি টিকে থাকলে নিম্ন সীমা কার্যকর হতে পারে। পাশাপাশি অন্তত ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
ওয়াশিংটনে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকদের অংশগ্রহণে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক যৌথভাবে আয়োজিত বার্ষিক স্প্রিং মিটিংস উদ্বোধনের সময় জর্জিয়েভা এই বক্তব্য দেন।
এদিকে, ব্লুমবার্গ টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা বলেন, যুদ্ধের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত উন্নয়নশীল দেশগুলোকে দ্রুত ২৫ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলার) পর্যন্ত অর্থায়ন দেওয়া সম্ভব। দীর্ঘমেয়াদে এই সহায়তা ৬০ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬ হাজার কোটি ডলার) পর্যন্ত যেতে পারে।
২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে দিয়েছে, সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত করেছে এবং হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
জর্জিয়েভা বলেন, এই সংকটের প্রভাব ‘অসম’, বিশেষ করে নিম্নআয়ের জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বুধবার বিশ্বব্যাংক জানায়, যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে ‘তাৎক্ষণিক ও গুরুতর প্রভাব’ পড়েছে। ইরান বাদ দিলে ২০২৬ সালে অঞ্চলটির প্রবৃদ্ধি কমে ১.৮ শতাংশে নামতে পারে, যা যুদ্ধ-পূর্ব পূর্বাভাসের চেয়ে ২.৪ শতাংশ পয়েন্ট কম।
যুদ্ধের কারণে তেল, গ্যাস ও সারসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ায় বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতিও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছে আইএমএফ।
বুধবার আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি প্রধানরা বৈঠক করে যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও খাদ্য নিরাপত্তা প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, জ্বালানি ও সারের দামের তীব্র বৃদ্ধি এবং পরিবহন সংকটের কারণে খাদ্যের দাম বাড়বে এবং খাদ্য নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক যৌথভাবে জ্বালানি বাজারে যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় একটি সমন্বয় গ্রুপও গঠন করেছে, যার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আগামী সোমবার অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া, আইএমএফের নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব দেশে যুদ্ধ চলছে সেখানে শুরুতেই উৎপাদন প্রায় ৩ শতাংশ কমে যায় এবং তা দীর্ঘ সময় ধরে নিম্নমুখী থাকে।
প্রতিবেদনটি আরও সতর্ক করেছে, ‘সব পথই উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও নিম্ন প্রবৃদ্ধির দিকে নিয়ে যায়’, বিশেষ করে সারের সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন খাদ্য নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
নিম্নআয়ের দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে এবং তাদের অনেকেরই অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে, যদিও এ ধরনের সহায়তা সাম্প্রতিক সময়ে কমে এসেছে।