শিরোনাম

ঢাকা, ৯ এপ্রিল ২০২৬ (বাসস) : দেশের সবুজ জ্বালানি রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশ পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের (বিপিএমআই) পূর্বাচল ক্যাম্পাসে অত্যাধুনিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়েছে।
জার্মান উন্নয়ন সহযোগিতার উদ্যোগে ‘স্কিলস ডেভেলপমেন্ট ফর সাসটেইনেবল অ্যানার্জি সলিউশনস (স্কিলস ৪এসই)’ প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণ বাস্তবায়িত হচ্ছে। দেশের সবুজ জ্বালানি সম্প্রসারণে বিদ্যমান কারিগরি দক্ষতার ঘাটতি পূরণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সৌর ও বায়ুশক্তি খাতে শিল্প-সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ প্রদানে দেশের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার করবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি-২০২৫ অনুযায়ী, ২০৪০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্য অর্জন এবং তৃতীয় জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি ৩.০) বাস্তবায়নে দক্ষ জনবলের চাহিদা পূরণে এ উদ্যোগ সহায়ক হবে।
শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দান নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই কেন্দ্র আধুনিক সবুজ প্রযুক্তি রক্ষণাবেক্ষণ ও সম্প্রসারণে সক্ষম দক্ষ কর্মী তৈরি করবে।
নতুন-এ প্রতিষ্ঠানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সিমুলেশন ও ফটোভোল্টাইক প্রযুক্তির জন্য বিশেষায়িত গবেষণাগার স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া বায়ু শক্তি সম্পদ মূল্যায়নের জন্য একটি আধুনিক আবহাওয়া কেন্দ্রও স্থাপন করা হয়েছে।
এই সহযোগিতার ফলে প্রশিক্ষণ পাঠ্যক্রম আধুনিকীকরণ করা হয়েছে, যেখানে উন্নত সোলার পিভি মডেলিং এবং বায়ুশক্তির সম্ভাব্যতা যাচাই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা নিশ্চিত করতে ‘ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স (টিওটি)’ কর্মসূচির মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৫২ জন প্রশিক্ষককে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিপিএমআই’র রেক্টর মো. সবুর হোসেন বলেন, এই আধুনিক সুবিধা দেশের টেকসই জ্বালানি রূপান্তরে বিপিএমআইকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে। তিনি বলেন, উন্নত প্রযুক্তি ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সমন্বয় জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিবেশগত লক্ষ্য অর্জনে অপরিহার্য।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জার্মান দূতাবাসের ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশনের প্রধান উলরিখ ক্লেপম্যান এই অংশীদারিত্ব সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে বলেন, একটি টেকসই জ্বালানি রূপান্তর কেবল প্রযুক্তিনির্ভর নয়, বরং এটি মানুষের ওপর নির্ভরশীল। শিল্প-সংশ্লিষ্ট দক্ষতা উন্নয়নে, বিশেষ করে নারী ও তরুণ পেশাজীবীদের জন্য বিনিয়োগের মাধ্যমে জার্মান উন্নয়ন সহযোগিতা নিশ্চিত করছে যে, বাংলাদেশের সবুজ জ্বালানির পথে অগ্রযাত্রা হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অর্থনৈতিকভাবে স্থিতিশীল।
এই প্রকল্পটি একটি ন্যায়সঙ্গত রূপান্তরের প্রতি আমাদের যৌথ অঙ্গীকারের প্রমাণ, যা কাউকে পেছনে ফেলে যাবে না এবং একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ অর্থনীতিকে চালিত করার জন্য প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ সরবরাহ করবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) চেয়ারম্যান মুজাফফর আহমেদ।