শিরোনাম

ঢাকা, ৯ এপ্রিল ২০২৬ (বাসস) : আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরে দেশের জ্বালানি চাহিদা দুই থেকে তিন গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে - এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই একটি সমন্বিত ও বহুমুখী জ্বালানি কৌশল গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশে অবস্থিত অ্যামেরিকান চেম্বার অব কমার্স (অ্যামচ্যাম)।
বুধবার ঢাকার শেরাটন হোটেলে অ্যামচ্যামের এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার সাবকমিটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘স্ট্র্যাটেজিক পাথওয়েজ ফর এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার সাসটেইনেবিলিটি’ শীর্ষক এক ফোকাস গ্রুপ আলোচনায় এ আহ্বান জানানো হয়। এতে জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনরা অংশ নেন।
আলোচনায় বলা হয়, দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একক নীতিগত অবস্থানের পরিবর্তে অংশীজনভিত্তিক পরামর্শ ও সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রয়োজন।
এরিক ওয়াকার বলেন, দেশীয় ও অফশোর উভয় ক্ষেত্রেই নতুন করে গ্যাস অনুসন্ধান ও খনন কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। তিনি এলএনজি টার্মিনাল সম্প্রসারণ এবং সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি সরকার ও শিল্পখাতের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপর জোর দেন।
ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবি) উপাচার্য অধ্যাপক এম তামিম বলেন, বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন বাড়ানো জরুরি হলেও এতে ২ থেকে ৫ বছর সময় লাগতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক রিজার্ভয়ার ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে ৩,০০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ এবং ছাদভিত্তিক সোলার থেকে আরও ২,০০০ মেগাওয়াট উৎপাদন করতে পারে, যা দিনে তেলনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর চাপ কমাবে।
ড. সেবাস্তিয়ান গ্রো নীতিগত বাধার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, বিশেষায়িত জ্বালানি সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো সৌর সরঞ্জাম আমদানিতে ৩০ শতাংশের বেশি শুল্ক দেয়, অথচ তৈরি পোশাক খাত মাত্র ১ শতাংশ শুল্কে সুবিধা পায়- এ বৈষম্য খাতটির অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।
হাবিব ভুঁইয়া বলেন, উচ্চমূল্যের স্পট এলএনজির ওপর দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতা অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন আমচ্যামের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ এরশাদ আহমেদ। এতে শেভরন, এক্সেলারেট এনার্জি, জিই ভার্নোভা এবং আইডিসিওএলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এবং যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।