শিরোনাম

ঢাকা, ৮ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেছেন, সরকার কর ফাঁকির জন্য বিশেষ মওকুফ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসছে এবং এর পরিবর্তে নিয়মমাফিক করদাতাদের জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে মনোযোগ দিচ্ছে।
আজ রাজধানীর এনবিআর ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রাক-বাজেট সভায় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রি (বিসিআইসি), রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব), বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমএ), বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমইএ), বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএলডিএ), টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ, বাংলাদেশ ফুডস্টাফ ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড সাপ্লায়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাফিসা), ফুটওয়্যার লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ), বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএলএলইএ), প্লাস্টিক ও রাবার জুতা মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, মার্বেল, গ্রানাইট ও অন্যান্য প্রাকৃতিক পাথরের ব্লক প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প সমিতি এবং বাংলাদেশ পাদুকা প্রস্তুতকারক সমিতি (বিপিপিএস) অংশগ্রহণ করে।
চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, এনবিআর কাস্টমস ভ্যালুয়েশনকে অটোমেশনের অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক মূল্য সূচক ব্যবহার করে ন্যায্য মূল্যায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইনভয়েস-ভিত্তিক সিস্টেমের দিকে এগোচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, ব্যবসাকে সহজতর করতে অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর (এইও) প্রোগ্রামকে আরো সম্প্রসারণ করা হবে। যাতে কোনো ফিজিক্যাল এক্সামিনেশন ছাড়াই নিয়মমাফিক করদাতারা সেল্ফ-অ্যাসেসমেন্টর মাধ্যমে পণ্য ছাড় করতে পারেন ।
আয়করের ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, শতভাগ ব্যক্তিগত কর রিটার্ন ইতোমধ্যেই ই-রিটার্নে রূপান্তরিত হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এনবিআর নিজেদের অডিট সিস্টেম আধুনিকায়ন করেছে এবং গত ২০ থেকে ২১ মাস ধরে ম্যানুয়াল অডিট বন্ধ রেখেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ৬০ হাজার কর রিটার্ন সম্পূর্ণ অটোমেটেড, ডেটা-চালিত নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অডিট করা হবে, যা কর কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত সাবজেক্টিভ সিদ্ধান্ত থেকে বিরত রাখবে।
চেয়ারম্যান নিশ্চিত করেছেন, ভ্যাট রিটার্ন এখন শতভাগ অনলাইনে এবং আগামী বছর থেকে বোর্ড কোনো কাগজভিত্তিক রিটার্ন গ্রহণ করবে না।
তিনি বলেন, কর ফাঁকি নিয়মমাফিক করদাতাদের জন্য উল্লেখযোগ্য ক্ষতি সৃষ্টি করে এবং বিদেশি বিনিয়োগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। কর নেট সম্প্রসারণ ও ফাঁকি হ্রাসের মাধ্যমে এনবিআর লক্ষ্য রাখছে, যাতে নীতির ভুলক্রমে নিয়মমাফিক করদাতাদের শাস্তি না দেয়।
অফশোর ফান্ডের বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির বিদেশ থেকে অর্থ স্বদেশে প্রেরণ করতে সম্পূর্ণভাবে এনবিআরের দ্বার উন্মুক্ত।
তিনি বলেন, করদাতারা ১৬০ থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে সংশোধিত রিটার্ন জমা দিতে এবং নিয়মমাফিক হারে কর প্রদান করতে পারবেন এবং এই অর্থ জাতীয় অর্থনীতিতে বিনিয়োগ করতে পারবেন।
চেয়ারম্যান স্পষ্টভাবে জানান, কর ফাঁকিদাতাদের কর মওকুফের মাধ্যমে উৎসাহ দেওয়ার যুগ শেষ হয়েছে এবং আগের কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বন্ধ হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা চাই না যে, কর ফাঁকি দেওয়াদের কম কর দিয়ে নিয়মমাফিক করদাতাদের চেয়ে সুবিধা নিতে দেওয়া হোক।
চেয়ারম্যান ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে অনুরোধ করেন, রাজস্ব বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রস্তাবনা দিতে এবং দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রাথমিক চালক হিসেবে তাদের ভূমিকা অব্যাহত রাখতে।
সভায় রিহ্যাব সভাপতি মো. ওয়াহিদুজ্জামান আগামী ২০২৬-২৭ জাতীয় বাজেটের জন্য ব্যাপক কর সংস্কারের প্রস্তাব সরকারের নিকট পেশ করেন।
তিনি বলেন, বর্তমান উচ্চ ব্যয় রেজিস্ট্রেশনকে উৎসহিত করছে না এবং রিয়েল এস্টেট শিল্পের বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করছে।
তিনি কর চাপ হ্রাসের জন্য ভ্যাট আইন-২০১২ ও আয়কর আইন ২০২৩-এ বিশেষ সংশোধনের দাবি জানান, যা ডেভেলপার ও ক্রেতা উভয়ের জন্য আর্থিক বোঝা হ্রাস করবে।