শিরোনাম

ঢাকা, ৭ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : দেশের ইসলামি আর্থিক খাত সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে শরিয়াহ বোর্ডের সদস্যদের যথাযথ সুশাসন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে পূর্ণ সুরক্ষা ও স্বাধীনতার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ৩০ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংক সদর দপ্তরে ইসলামি ব্যাংকিংয়ের বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয় শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় গভর্নর বিভিন্ন ইসলামি ব্যাংকের শীর্ষ শরিয়াহ বিশেষজ্ঞ ও নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
সভায় বর্তমান ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতিগুলো তুলে ধরা হয়, বিশেষ করে আর্থিক অনিয়ম প্রতিরোধ এবং শরিয়াহ অনুসরণ নিশ্চিত করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
অতীতে কিছু ইসলামি ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানে অর্থপাচার ও আর্থিক অসদাচরণের ঘটনা মূলত যথাযথ তদারকির অভাবে ঘটেছে বলে গভর্নর স্বীকার করেন।
তিনি বলেন, ইসলামি ব্যাংকিং তত্ত্বগতভাবে সম্পদ-সমর্থিত এবং এ ধরনের ক্ষতি এড়ানোর জন্য নকশা করা হলেও বাস্তবে এর সঙ্গে উল্লেখযোগ্য অসঙ্গতি দেখা গেছে, যা দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।
এ প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, শরিয়াহ বোর্ডকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ক্ষমতায়ন করতে হবে এবং কার্যকর তদারকি পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য তাদের সিদ্ধান্তকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
সভায় বাংলাদেশকে ইসলামি ব্যাংকিংয়ের আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ভিশনও নিয়েও আলোচনা হয়।
এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন এবং বিশ্বখ্যাত আলেমদের নিয়ে আন্তর্জাতিক শরিয়াহ সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তাব করা হয়।
এছাড়া মালয়েশিয়া ও পাকিস্তানের মডেল অনুসরণ করে ধীরে ধীরে প্রচলিত ব্যাংকগুলোকে ইসলামি ব্যাংকে রূপান্তরের প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
জনআস্থা বজায় রাখতে আলেমরা বছরে অন্তত একবার বহিঃশরিয়াহ নিরীক্ষা পরিচালনা এবং সব ইসলামি ব্যাংকের জন্য ‘শরিয়াহ কমপ্লায়েন্স রেটিং’ ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করেন।
অর্থপাচার ও বড় ধরনের দুর্নীতিকে রাষ্ট্রদ্রোহ হিসেবে গণ্য করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবিও জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়।
সমাপনী বক্তব্যে গভর্নর সকল অংশীজনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, হাসপাতালের মতো ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোকেও কেবল সেবামুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালনা করা উচিত।
শরিয়াহ বিশেষজ্ঞরা যাতে ভীতি বা বাহ্যিক চাপ ছাড়াই দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিরাপত্তা প্রদান করবে বলে তিনি আশ^স্ত করেন।
সভায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং প্রখ্যাত আলেম ও গবেষক অধ্যাপক ড. আবু বকর রফিক, মুফতি শহীদ রহমানীসহ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।