শিরোনাম

চট্টগ্রাম, ৭ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : চট্টগ্রাম বন্দর নানা সীমাবদ্ধতার পরও কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে অগ্রগতি ধরে রেখেছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও শ্রমিকদের দুই সপ্তাহের বিক্ষোভের প্রভাব থাকলেও, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে কনটেইনার পরিবহনে অগ্রগতি কিছুটা বৃদ্ধি হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং এবং জাহাজ আসার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ— এই তিন মাসে বন্দরে ৭ লাখ ৯৯ হাজার কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৭ লাখ ৯৫ হাজার। সে হিসাবে কনটেইনার বেড়েছে ৩ হাজার ৮৪৫টি।
তবে একই সময়ে পণ্য হ্যান্ডলিং কমেছে। এই সময়ে মোট পণ্য ওঠানামা হয়েছে ৩ কোটি ৫৯ লাখ টন, যা আগের বছরের তুলনায় ২ লাখ ৪১ হাজার টন কম।
জাহাজ আগমনও কমেছে। গত বছরের ১ হাজার ১১১টির বিপরীতে এ বছর এসেছে ১ হাজার ৮৭টি জাহাজের আগমন হয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের হালনাগাদ তথ্য বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এই নয় মাসে মোট কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ১০ কোটি ৪২ লাখ ৯৮ হাজার ৬৫৮ টন; যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি।
এ সময়ে বন্দরে জাহাজ এসেছে ৩২৩০টি, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ের ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি। বিশেষ করে, অক্টোবর ২০২৫ একক মাসে ২১ দশমিক ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন বন্দর কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার করেছে।
অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, ডলার সংকট কাটিয়ে ওঠা এবং জ্বালানি, গম ও শিল্প কাঁচামাল আমদানি বৃদ্ধিকে এই প্রবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বন্দরে এ সময়ে জাহাজের গড় অবস্থানকাল কমার পাশাপাশি বর্হিনোঙ্গরে জাহাজের অপেক্ষার সময় শূন্যতে নেমে এসেছে বলেও দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, ‘বন্দরের দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন সেবার অটোমেশনসহ নানা উদ্যোগের ফলে অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই এ অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। অর্থবছরের বাকি সময়েও বন্দর কর্তৃপক্ষ এ অগ্রগতি চলমান রাখতে চায়।’
বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেডের (সিডিডিএল) অধীনে যাওয়ার পর কার্যক্রমে গতি এসেছে। ই-গেট ও টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম চালুর ফলে দক্ষতা বেড়েছে।
এখন বন্দরে জাহাজের অপেক্ষার সময় নেই বললেই চলে। জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম চার দিন থেকে কমে ২ দশমিক ৫৩ দিনে নেমে এসেছে।
‘সিপিএ স্কাই’ ও প্রি-অ্যারাইভাল প্রসেস (পিএপি)-এর মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে।
বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, এনসিটি’র কার্যক্রম হস্তান্তরের পর দক্ষতা ১২ থেকে ১৪ শতাংশ বেড়েছে। ঈদুল ফিতরের ছুটিতেও নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম বজায় থাকায়, এ অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।
এর মধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ে। এতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয় এবং ভাড়া ২০ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।
এ ছাড়া এনসিটি বিদেশি অপারেটরের কাছে লিজ দেওয়ার পরিকল্পনার প্রতিবাদে শ্রমিকদের দুই সপ্তাহের বিক্ষোভে বন্দর কার্যক্রমও সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়েছিল।
ট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ বলেন, ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’ অর্জন, জাহাজের গড় ‘টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম’ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বার্থ অকুপেন্সি দক্ষভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যে চলমান আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে, ভবিষ্যতে এই প্রবৃদ্ধির ধারা আরও শক্তিশালী হবে এবং দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে নতুন গতি যোগ করবে।