বাসস
  ২৪ মার্চ ২০২৬, ২২:৫১

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রভাব মোকাবিলায় এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চলে সহায়তা দেবে এডিবি

ঢাকা, ২৪ মার্চ ২০২৬ (বাসস) : মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতজনিত অর্থনৈতিক ও আর্থিক প্রভাব মোকাবিলায় এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উন্নয়নশীল সদস্য দেশগুলোর জন্য একটি সমন্বিত আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এডিবি প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্ডা বলেন, ‘তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা জোরদারে এডিবি দ্রুত, নমনীয় ও সম্প্রসারণ যোগ্য সহায়তা দেবে। এর মধ্যে দ্রুত ছাড় যোগ্য বাজেট সহায়তা এবং বাণিজ্য ও সরবরাহ চেইন অর্থায়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যাতে প্রয়োজনীয় পণ্য বিশেষত জ্বালানি তেল আমদানি অব্যাহত রাখা যায়।’

তিনি বলেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে সহায়তা প্রদানে এডিবির পূর্ব অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিদ্যমান ও পরিকল্পিত কার্যক্রম সুরক্ষায় এডিবির পর্যাপ্ত সম্পদ রয়েছে এবং সদস্য দেশগুলোর চাহিদা অনুযায়ী জরুরি সহায়তা সম্প্রসারণে সংস্থাটি প্রস্তুত। এ ক্ষেত্রে কাউন্টার সাইক্লিক্যাল ঋণ সুবিধাসহ বিভিন্ন আর্থিক উপকরণ ব্যবহার করা হবে।

বিশ্ববাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব, বিশেষ করে জ্বালানি মূল্যের অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যের ওপর প্রভাব ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এডিবি।

সংস্থাটির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জাহাজ চলাচলের রুটে বিঘ্ন ঘটায় পরিবহন ব্যয় ও সরবরাহ সময় বেড়েছে। একই সঙ্গে পেট্রোকেমিক্যাল ও সারসহ গুরুত্বপূর্ণ শিল্প উপকরণের সরবরাহ ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

পর্যটন ও প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল অর্থনীতির দেশগুলো এ পরিস্থিতিতে অধিক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। পাশাপাশি সংঘাতজনিত অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় অঞ্চলে আর্থিক পরিস্থিতি কঠোর হয়েছে, যা মুদ্রার ওপর চাপ ও পুঁজি প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এ প্রেক্ষাপটে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে সময়োপযোগী আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে এডিবি।

সহায়তা প্যাকেজের প্রথম উপাদান হিসেবে আর্থিক চাপে থাকা দেশগুলোর জন্য দ্রুত ছাড় যোগ্য বাজেট সহায়তা প্রদান করা হবে। এর আওতায় কাউন্টার সাইক্লিক্যাল সাপোর্ট ফ্যাসিলিটি ব্যবহার করে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহায়তা দেওয়া হবে।

দ্বিতীয় উপাদান হিসেবে এডিবির ট্রেড অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্স প্রোগ্রাম (টিএসসিএফপি)-এর মাধ্যমে বেসরকারি খাতকে সহায়তা দিয়ে জ্বালানি ও খাদ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ আমদানি অব্যাহত রাখা নিশ্চিত করা হবে।

এ কর্মসূচির আওতায় সীমিত সময়ের জন্য ব্যতিক্রমী ভিত্তিতে তেল আমদানিতে সহায়তা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এডিবি, যা জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্নের প্রভাব মোকাবিলায় সহায়ক হবে।

এডিবি ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য সহায়তা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে এবং সরকার, উন্নয়ন অংশীদার ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যকর প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

উল্লেখ্য, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল প্রবৃদ্ধি অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত সংস্থাটির বর্তমানে ৬৯টি সদস্য দেশ রয়েছে, যার মধ্যে ৫০টি এ অঞ্চলের।