শিরোনাম

ঢাকা, ১০ মার্চ, ২০২৬ (বাসস): বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি) আজ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত দুই কর্মকর্তার বিদেশ সফরে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত খবরকে নাকচ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে স্পষ্ট করে বলেছে, সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিতব্য একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি থেকে তাদের নাম প্রত্যাহার করা হয়েছে প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত কারণে, কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞামূলক ব্যবস্থার কারণে নয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্টভাবে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে যে পরিচালক লিজা ফাহমিদা এবং অতিরিক্ত পরিচালক কামরুল ইসলামকে তাদের কথিত ঘনিষ্ঠতার কারণে ভ্রমণ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
৯ ও ১০ মার্চ দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, টেলিভিশন চ্যানেল এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে এই বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়।
ওই সব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘স্ট্র্যাটেজিক থিংকিং অ্যান্ড ডিসিশন মেকিং ফর সেন্ট্রাল ব্যাংক লিডারস’ শীর্ষক একটি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তার ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠেয় এই কর্মসূচিটি ৯ থেকে ১১ মার্চ পর্যন্ত চলার কথা ছিল।
ভুল তথ্যভিত্তিক এসব প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, সাবেক গভর্নরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে কর্তৃপক্ষ হস্তক্ষেপ করেছে। বিশেষ করে কামরুল ইসলাম সাবেক গভর্নরের একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন-এ বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, পরিচালক লিজা ফাহমিদা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি থেকে নিজের নাম প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেছিলেন। পরে তার আবেদনটি যথাযথ কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করে অনুমোদন দেয়।
অন্যদিকে, অতিরিক্ত পরিচালক কামরুল ইসলাম, যিনি সাবেক গভর্নরের একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাকে অন্য একটি বিভাগে বদলি করা হয়েছে। ফলে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ওই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সঙ্গে তার বর্তমান দায়িত্বের কোনো সরাসরি সম্পর্ক না থাকায় তার অংশগ্রহণ অপ্রয়োজনীয় বিবেচিত হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, এসব ভুল প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুনামের ওপর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি ডেকে এনেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও বলেছে, যাচাই-বাছাই ছাড়া এ ধরনের দাবি প্রচার করা হলে তা একদিকে যেমন প্রতিষ্ঠানের পেশাদার কর্মীদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে, অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সুনামকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।
এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক সব সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, কোনো তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তা যাচাই করে নেওয়ার জন্য। এতে পেশাগত নৈতিকতা বজায় থাকবে এবং জনগণ সঠিক তথ্য পাবে।