শিরোনাম

ঢাকা, ২ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিআই) একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল আজ বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিসিসিআই সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম ও মহাসচিব জামিলুর রহমান। এসময় তাদের সঙ্গে সিনিয়র সহ-সভাপতি, সহ-সভাপতি এবং চেম্বারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকটি বাংলাদেশ সরকারের নতুন কৌশলগত অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারসমূহের প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হয়। বিসিসিআই’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য ও শিল্প সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনা করা হয়।
চীনে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ আউটলেট স্থাপন : বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও অন্যান্য পণ্য প্রচারের লক্ষ্যে চীনে অন্তত ২০টি ব্র্যান্ডেড খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এর মাধ্যমে চীনা বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং রপ্তানি সম্প্রসারণ সম্ভব হবে।
বেসরকারি খাতে এলএনজি আমদানি : শিল্পখাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বেসরকারি খাতের মাধ্যমে এলএনজি আমদানির সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। এতে শিল্প উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বজায় রাখা এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলা সহজ হবে।
অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্প স্থানান্তর : বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে চীনা বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি এবং চীন থেকে স্থানান্তরিত শিল্প-বিশেষত, শ্রমনির্ভর খাত বাংলাদেশে আকৃষ্ট করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এর ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং দেশের শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে।
বিসিসিসিআই’র পক্ষ থেকে প্রতিনিধিদল কয়েকটি কৌশলগত প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে- চীনে বাংলাদেশের রপ্তানি বৃদ্ধি, বিশেষ করে কৃষিপণ্য ও ভ্যালু-অ্যাডেড পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ, চীনের সহায়তায় একটি আধুনিক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা, স্বাস্থ্য খাতে মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি মেডিকেল নার্সিং ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপন, এবং বাংলাদেশে চীনা ব্যাংকের শাখা স্থাপনে উৎসাহ প্রদান, যা বাণিজ্য লেনদেন সহজতর করবে, লেনদেন ব্যয় হ্রাস করবে এবং দুই দেশের মধ্যে আর্থিক সংযোগ আরও সুদৃঢ় করবে।
প্রতিনিধিদলটি বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও গতিশীল ও পারস্পরিক কল্যাণকর পর্যায়ে উন্নীত করতে বিসিসিসিআই’র অটল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।