শিরোনাম

ঢাকা, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে নতুন সরকারকে জরুরি কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে একটি কৌশলগত রোডম্যাপ ‘রোড টু রিভাইভাল’ পেশ করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।
আজ সোমবার ‘বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ বেসরকারি খাতের অস্থিরতা কাটিয়ে উঠতে অবিলম্বে নীতিগত হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তাসকিন আহমেদ তার বক্তব্যে আর্থিক খাত, জ্বালানি, শিল্পায়ন, শুল্কায়ন, লজিস্টিক অবকাঠামো, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন, এলডিসি উত্তরণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরসহ বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তুলে ধরেন।
ডিসিসিআই সভাপতি জানান, দেশের সামগ্রিক রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় অটোমেশনের অভাবে ব্যক্তিগত করদাতা এবং ব্যবসায়ীরা কর দিতে গিয়ে প্রায়ই অহেতুক হয়রানির শিকার হচ্ছেন। একইসঙ্গে অনেকে কর জালের বাইরে থাকায় সরকার ন্যায্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং রাজস্ব সংগ্রহের গতি ধীর হচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশের লজিস্টিক খাতে ব্যয় বৃদ্ধি, জমি অধিগ্রহণের দীর্ঘসূত্রিতা ও জমির উচ্চমূল্য, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বিভিন্ন সেবার হার গড়ে ৪১ শতাংশ বাড়ানো, অভ্যন্তরীণ নদীপথের কার্যকর ব্যবহার না থাকার কারণে ব্যবসা পরিচালন ব্যয় কয়েকগুন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার ফলে পণ্য উৎপাদান ও বিতরণ ব্যয় বাড়ছে, যেটি মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
এলডিসি থেকে উত্তরণের বিষয়ে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, আঙ্কটাড’র প্রাক্কলন অনুযায়ী বাংলাদেশের রপ্তানি ৫.৫ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২.৭ বিলিয়ন ডলার। বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক অস্থিরতা বিবেচনায় রপ্তানি খাতে এই নেতিবাচক প্রভাব কাম্য নয়। এই প্রেক্ষাপটে তিনি এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন অন্তত তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে অনুরোধ করেন।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির বিষয়ে তাসকিন আহমেদ বলেন, এর ফলে তৈরি পোশাক খাতে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত হবে না। এছাড়াও এলএনজিসহ অন্যান্য পণ্য আমদানিতে শর্তারোপের কারণে আমাদের ব্যবসা পরিচালনা ব্যয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা দেবে। তাই যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে পুনঃআলোচনার মাধ্যমে চুক্তির শর্তাবলি সংশোধনের জন্য নতুন সরকারের প্রতি জোরারোপ করেন তাসকিন আহমেদ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের প্রশ্নোত্তরের সময় ঢাকা চেম্বার সভাপতি তাসকিন আহমেদ দেশে চাঁদাবাজি নিরসন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে নবনির্বাচিত সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
ডিসিসিআই সভাপতি উল্লেখ করেন, দেশের প্রায় ২০ লক্ষাধিক শিক্ষিত তরুণ বেকার, কর্মসংস্থানের অভাবে অনেকেরই অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। বিষয়টি মোকাবিলায় তরুণদের শুধু চাকুরির ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর লক্ষ্যে দক্ষতা উন্নয়ন ও ব্যবসায়ী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার শর্তাবলী সহজীকরণে সরকারকে আরও উদ্যোগী হওয়ার উপর জোরারোপ করেন। একইসঙ্গে স্টার্ট-আপ ব্যবসাকে সহজতর করতে তরুণদের সহজশর্তে ঋণ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিতকরণে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তাসকিন আহমেদ।
অনুষ্ঠানে ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী এবং সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মানসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।