বাসস
  ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:২২

চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি-রপ্তানির সব সেবার এক প্ল্যাটফর্ম ‘সিপিএ স্কাই’ 

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের বোর্ড রুমে পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডো ‘সিপিএ স্কাই’ ডিজিটাল প্লাটফর্ম উদ্বোধনকালে কথা বলেন চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান। ছবি: বাসস

চট্টগ্রাম, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি-রপ্তানি, এনবিআর, কাস্টমস ও বন্দর সংশ্লিষ্ট সব সেবা ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় এক প্ল্যাটফর্মে আনতে ‘সিপিএ স্কাই’ চালু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

আগে যে কাজগুলো ফিজিক্যালি করতে হতো, টেবিলে, ডেস্কে, কাস্টমস, ব্যাংক, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডের কাছে যেতে হতো এখন এই কাজগুলো ডিজিটাল প্লাটফর্মে হবে। যার ফলে আগে যে কাজে পাঁচ দিন লাগতো, এখন তা আধঘণ্টায় হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান।
 
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের বোর্ড রুমে পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডো ‘সিপিএ স্কাই’ ডিজিটাল প্লাটফর্ম উদ্বোধনকালে তিনি একথা বলেন। 

বন্দর চেয়ারম্যান এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সিপিএ স্কাই’ চালু হবার কারণে আমাদের সময় বেঁচে যাবে, ফার্স্ট হবে, কার্গো, ডেলিভারি, জাহাজের টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম অনেক কমে আসবে। এতে আমাদের মুভমেন্ট কমে যাবে। গ্রিন পোর্ট হবে। এটা বড় ধরনের মাইলফলক। সারা পৃথিবী জেনে যাবে আমাদের চট্টগ্রাম পোর্ট ডিজিটাল পোর্ট হয়ে গেল এবং আন্তর্জাতিক মানের প্লাটফর্মে, ডিজিটাল মেরিটাইম লজিস্টিক করিডোরে আমরা ডাইরেক্ট কানেক্টেড হলাম। কাস্টমসের ইজিএম, আইজিএম কাজগুলো এটার মাধ্যমে করা যাবে। প্রিঅ্যারাইভাল প্রসিডিওর হবে।  

বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে পৃথিবীর সব পোর্ট ডিজিটাল, অটোমেটেড হয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল করিডোরে যে ট্রানজেকশন হচ্ছে লজিস্টিক সেক্টরে সেটি থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে ছিলাম। অনেকে বলে আমাদের তো টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম আছে, এনবিআরের অ্যাসাইকুডা সিস্টেম আছে। কিন্তু প্র্যাক্টিক্যালি আমাদের পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডো ছিল না। একটা ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো হচ্ছে পুরো দেশের জন্য। সেটি এনবিআর করছে। আরেকটি মেরিটাইম সিঙ্গেল উইন্ডো হচ্ছে। সেটা ডিজি শিপিং করছে। আমরা যেটি করেছি- সেটি হচ্ছে পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেম। এখানে সব সংস্থা সংযুক্ত। এক প্লাটফর্মে এসেছে।

বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, আগে আমদানি পণ্য দেশে আনার পর ডেলিভারি প্রক্রিয়া শুরু হতো। কাস্টমস ফরমালিটি, গেটপাস করে ডেলিভারি হতো। এখন লোড পোর্ট থেকে অনলাইন প্লাটফর্মে হবে। আর কোনো টেনশন থাকলো না। ২৪ ঘণ্টা ৭ দিন যেখান থেকে ইচ্ছে কাজগুলো করা যাবে। আমাদের অফিশিয়াল ফাংশন হবে ডিজিটাল। আমরা পেপারলেস হয়ে যাব। আমি বলে দিয়েছি টেবিলে পেপার দেখতে চাই না। আর কিছু দিন সময় লাগবে অভ্যস্ত হতে। 

তিনি বলেন, পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডোর হেল্প ডেস্ক রাখবো। কয়েকটা ক্যাম্পেইন করেছি। এজেন্ট ডেস্ক করেছি। এ সেবার জন্য ন্যূনতম চার্জ দিতে হবে। ঢাকা-চট্টগ্রামে কল সেন্টারের মতো এজেন্ট ডেস্ক হওয়া উচিত। এ সুবিধা না থাকলে যে কাজে পাঁচ সাত দিন লাগতো তা আধঘণ্টায় হয়ে যাবে। অনেক খরচ সাশ্রয় হবে। সব মিলে আমি বলবো এটি বাস্তবমুখী, যুগান্তকারী এবং ব্যবহার উপযোগী প্লাটফর্ম।