শিরোনাম

ঢাকা, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির অংশ হিসেবে তালিকাভুক্তিকে একটি সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কর্পোরেট সুশাসনের সঙ্গে পরিচালন কাঠামো আরও সুসংগত হয় এবং বাজারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শৃঙ্খলা জোরদার হয় বলে মনে করছেন বক্তারা। একই সঙ্গে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহের সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা টেকসই প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) উদ্যোগে আজ ডিএসই ট্রেনিং একাডেমিতে ‘প্রবৃদ্ধির পরবর্তী পদক্ষেপ: তালিকাভুক্তির পথে অগ্রযাত্রা- প্রবৃদ্ধি, সুশাসন ও বিশ্বাসযোগ্যতা জোরদারের কৌশলগত দিকনির্দেশনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেমিনারে তালিকাভুক্ত নয় এমন বিভিন্ন কোম্পানির শীর্ষ প্রতিনিধিবৃন্দ অংশ নেন।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, তালিকাভুক্তি কেবল একটি আর্থিক অর্জন নয়; বরং এটি সুশাসন, স্বচ্ছতা ও টেকসই প্রবৃদ্ধির প্রতি একটি সুস্পষ্ট কৌশলগত অঙ্গীকার। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারী ও অন্যান্য অংশীজনদের আস্থা আরও দৃঢ় হয় এবং পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের ভিত্তি শক্তিশালী হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ডিএসই’র প্রধান রেগুলেটরি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাগত বক্তব্যে বলেন, স্টক এক্সচেঞ্জের মূল লক্ষ্য হলো মূলধন উত্তোলনের জন্য একটি স্বচ্ছ, দক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য প্ল্যাটফর্ম নিশ্চিত করা। নতুন আইপিও রুলস-২০২৫ মানসম্মত কোম্পানির তালিকাভুক্তি, শক্তিশালী কর্পোরেট গভর্ন্যান্স এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির মাধ্যমে টেকসই পুঁজিবাজার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, নতুন কাঠামোতে লিস্টিংকে কৌশলগত প্রবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তালিকাভুক্তির পূর্বশর্ত হিসেবে গভর্ন্যান্স নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ডিউ ডিলিজেন্স ও তালিকাভুক্তির পরবর্তী দায়বদ্ধতা জোরদার করায় বাজারে শৃঙ্খলা, সঠিক মূল্য নির্ধারণ ও বিনিয়োগকারী সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। এ নীতিমালা বাস্তবায়নে সব পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সেমিনারে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) প্রণীত পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ রুলস, ২০২৫ নিয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএসইসি’র অতিরিক্ত পরিচালক শেখ মো. লুত্ফুল কবির নতুন বিধিমালার পটভূমি, প্রধান পরিবর্তন, আইপিও প্রক্রিয়া, বুক বিল্ডিং ও আন্ডাররাইটিং ব্যবস্থার সংস্কার তুলে ধরে বলেন, নতুন বিধিমালা আইপিও প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সময়োপযোগী ও বাজারবান্ধব করবে এবং বিনিয়োগকারীর স্বার্থ সুরক্ষায় সহায়ক হবে।
ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও তানজিব আলমগীরের নেতৃত্বে একটি টিম নতুন নিয়মের আওতায় সম্ভাব্য ইস্যুয়ারদের তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রেজেন্টেশন দেন।
এতে বলা হয়, আইপিও একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি, যা সফল করতে প্রারম্ভিক প্রস্তুতি, স্বচ্ছতা, সুশাসন ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন অপরিহার্য।
ডিএসই প্রোডাক্ট অ্যান্ড মার্কেট ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান সাইদ মাহমুদ জুবায়ের সুযোগের দ্বার উন্মোচন: পুঁজিবাজারের একটি সার্বিক পর্যালোচনা শীর্ষক প্রেজেন্টেশনে দেশের পুঁজিবাজার কাঠামো, তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়া, নতুন ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম এবং পুঁজিবাজারভিত্তিক অর্থায়নের সম্ভাবনা তুলে ধরেন।
সমাপনী বক্তব্যে ডিএসই’র প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ড. মো. আসিফুর রহমান বলেন, নতুন আইপিও নিয়ম প্রণয়নে বিএসইসি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছে এবং ডিএসই, সিএসইসহ সব স্টেকহোল্ডার এতে সম্পৃক্ত ছিলেন। নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ এবং সে অনুযায়ী সিস্টেম প্রস্তুত করাকে তিনি একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন।
ভবিষ্যতে বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে নিয়মগুলো আরও পরিমার্জন করা হবে, যাতে একটি পরিপক্ব, সুসংগঠিত ও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রিত পুঁজিবাজার গড়ে তোলা যায়।