শিরোনাম

ঢাকা, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে বাজার স্থিতিশীল রাখতে ১ কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল ও ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল ক্রয়ের পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
এছাড়া একই সভায় ৭৫ হাজার মেট্রিক টন সার ক্রয়, সড়ক খাতের একটি প্রস্তাব অনুমোদন এবং সমুদ্রবিজ্ঞান গবেষণা কার্যক্রম জোরদারে একটি ছোট গবেষণা জাহাজ ও দুটি স্পিড বোট ক্রয়ের প্রস্তাবও অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত চলতি বছরে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির চতুর্থ সভায় আজ মঙ্গলবার এসব অনুমোদন দেওয়া হয়।
সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে ডাল ও ভোজ্যতেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এসব ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল স্থানীয় প্রতিষ্ঠান কেবিসি অ্যাগ্রো প্রোডাক্টস প্রাইভেট লিমিটেড থেকে ক্রয় করা হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ১০টি লটে এ ডাল ক্রয় করা হবে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭০ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। প্রতি কেজি ডালের দাম নির্ধারণ হয়েছে ৭০ টাকা ৯৬ পয়সা। সরকারি বাফার স্টক জোরদার এবং বাজারে ডালের দাম স্থিতিশীল রাখতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
এছাড়া ভোজ্যতেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার ১ কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী এতে মোট ব্যয় হবে ১৮৫ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৫০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল সুপার অয়েল রিফাইনারি লিমিটেড থেকে প্রতি লিটার ১৮৫ টাকা ৯৫ পয়সা দরে এবং বাকি ৫০ লাখ লিটার শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে প্রতি লিটার ১৮৫ টাকা ৯০ পয়সা দরে ক্রয় করা হবে।
ফাওজুল কবির খান আরও জানান, কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে শিল্প মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে ইউরিয়া ও এমওপি সার আমদানির দুটি প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্রানুলার ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে। এতে মোট ব্যয় হবে ২০১ কোটি ২২ লাখ টাকা। যার প্রতি টন সারের দাম ধরা হয়েছে ৪১০ মার্কিন ডলার।
এছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির আওতায় রাশিয়ার জেএসসি প্রডিন্টর্গ থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানি করা হবে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এ সার আমদানি করবে। যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা এবং প্রতি টনের দাম ধরা হয়েছে ৩৫২ দশমিক ৯৩ মার্কিন ডলার।
কর্মকর্তারা জানান, এ সার আমদানির ফলে আসন্ন চাষ মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন সার সরবরাহ নিশ্চিত হবে।
সরকারের ব্লু ইকোনমি উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জন্য নমুনা সংগ্রহে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে একটি ছোট গবেষণা জাহাজ ও দুটি স্পিড বোট ক্রয়ের প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ১৬১ কোটি ৭১ লাখ টাকা, খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড এগুলো সরবরাহ করবে।
এছাড়া বৈঠকে লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও ফেনী জেলা হয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে সংযুক্তকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রকল্পের ক্রয় প্রস্তাব পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের সুপারিশ করা হয়। যা আঞ্চলিক যোগাযোগ ও শিল্প বিকাশে সহায়ক হবে বলে জানান কর্মকর্তারা।